শুভকামনা ডাকসুর ইসলামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০১৯

-পলাশ রহমান

দীর্ঘ ২৮ বছর পরের ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। তাদের প্রচার প্রচারণায় ভরে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। শুধু যে তাদের পক্ষ থেকে প্রচার প্রচারণা চলছে তা নয়, যারা তাদের পছন্দ করে না, নিন্দা করার জন্য মুখিয়ে থাকে তারাও উঠেপড়ে লেগেছে। সর্বশক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে। ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা নিন্দুকদের নিন্দাকথা খুব একটা গায়ে না মাখলেও তারা হাল ছাড়েনি। মনের বিষ মিশিয়ে নিন্দা করে চলেছে। মনে হচ্ছে তারা বিষয়টা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছে না। ছাত্র আন্দোলনের এই উত্থান, সাফল্য তাদের জন্য অসহ্য হয়ে উঠেছে। মজার ব্যাপার হল- যারা এই নিন্দা-জিহাদে রাতদিন গুজার করছেন তারাও ইসলামপন্থী রাজনীতি করেন। তারাও কোনো না কোনো ইসলামি দলের নেতাকর্মী অথবা সমর্থক।

আমি কোনো ভাবেই বুঝতে পারছি না, তারা কেনো উঠেপড়ে লেগেছে? রাজনৈতিক ভিন্নমত, দলের কৌশলগত প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, তাই বলে নিন্দা করতে হবে? সমাদর্শের অন্য দলের উত্থানে এত ইর্ষা করতে হবে? এ আবার কেমনতরো ইসলামি রাজনীতি? কেমনতরো আপনাদের ধর্ম শিক্ষা? আমরা জানি কাকের গোস্ত কাকে খায় না। আপনারা তো সফেদ আলখেল্লার আড়ালে কাক থেকেও কুৎসিত চিন্তা লালন করেন।

নিন্দুকদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই- লেজ টেনে ধরে ছাত্র আন্দোলনকে থামানো যাবে না। তারা ইতোমধ্যেই ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলেছে। তাদের রাজনৈতিক দক্ষতা, যোগ্যতা তারা প্রমাণ করতে পেরেছে। নিন্দা করা অনেক সহজ, কিন্তু ঢাবির ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচন করা, ঢাবির ক্যাম্পাসে মিটিং মিছিল করা, আধুনিক ইশতেহার প্রকাশ করা মোটেও সহজ কাজ নয়।

যে চত্ত্বরে এতদিন ইসলামপন্থীরা এক প্রকারের নিষিদ্ধ ছিল, যে চত্ত্বর দীর্ঘ দিন ইসলামের রাজনীতি বিরোধীদের অরণ্য ছিল, সেখানে আজ একটি ইসলামপন্থী ছাত্র সংগঠন পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচন করছে, বিষয়টা মোটেও মামুলি কোনো ব্যাপার নয়। এটা বোঝার মতো জ্ঞান আপনাদের আছে কী না আমি জানি না। তবে কুৎসিত নিন্দার ঢিল ছুড়ে তাদের নাগাল পাওয়া এখন আর সম্ভব নয় তা বুঝতে পারি। ইশা ছাত্র আন্দোলন অনেক দুর এগিয়ে গিয়েছে। তাদের গতি আর আপনাদের গতিতে ব্যাপক ফারাক তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা যতো তাড়াতাড়ি বুঝবেন, মেনে নিবেন মঙ্গল ততই তরান্বিত হবে।


আপনারা যারা নিন্দা করছেন, গালিগালাজ করছেন, তারা কী মনে করেন বামপন্থী সংগঠনগুলো বা তাদের মতো অন্যান্য আদর্শের ছাত্র সংগঠনগুলোর শরীরে আপনাদের থেকে জ্বালাপোড়া কোনো অংশে কম হচ্ছে বা হয়েছে? তাদের জ্বালাপোড়া, মাথাব্যাথা অনেক বেশি। তারাও চেষ্টা করেছিল ছাত্র আন্দোলনকে ডাকসু নির্বাচনের বাইরে রাখতে। চেষ্টা যে এখনো করছে না, তা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো ছাত্র আন্দোলনের বিচক্ষণ রাজনীতির সাথে তারা পেরে ওঠেনি। ছাত্র শিবির ঢাবির রাজনীতিতে যে ভুল করেছিল ছাত্র আন্দোলন তা করেন। ছাত্র আন্দোলনের কৌশলী রাজনীতির কাছে ইতিমধ্যেই বাম ও তাদের বন্ধুদের নৈতিক পরাজয় হয়েছে।


মনের দৈন্যদশা সরিয়ে রেখে নির্মোহ চোখে ছাত্র আন্দোলনের প্যানেলের দিকে তাকিয়ে দেখুন, তাদের ইশতেহার পড়ুন। ঢাবির ক্যাম্পাসে দেয়া তাদের বক্তব্যগুলো শুনুন। কতো বিচক্ষণ এবং কৌশলী তাদের অবস্থান সহজেই বুঝতে পারবেন। সকল ছাত্র সংগঠনের বিরোধীতা, মিডিয়ার বিরোধীতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব বিরোধীতাসহ এত  এত বৈরীতার মধ্যে তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে পেরেছে। শুধু জানান দেয়া নয়, রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছে। নীতিনির্ধারকসহ প্রায় সকলের মাথাব্যাথার কারন হয়ে উঠেছে। আর আপনারা পড়ে আছেন তিনজন নারী সদস্য নিয়ে। অথচ শারিরীক প্রতিবন্ধি, সংখ্যালঘুসহ সবাইকে সাথে নিয়ে তারা যে ডায়নামিক প্যানেল ঘোষণা করেছে তা হয়তো আপনার বুঝতেই পারেননি। আপনারা হয়তো তাদের সময় উপযোগী কৌশল ধরতেই পারেননি। অবশ্য না পারারই কথা, তাদের কৌশল, প্রজ্ঞা ধরতে পারলে তো আপনারাই তাদের জায়গায় থাকতেন। দুরে বসে কা’কা করতেন না।

আমি বলি কী- এসব বাদ দেন। মানুষ না হাসিয়ে কাজ শুরু করুন। এখন থেকে চেষ্টা করুন যেনো আগামী ডাকসু নির্বাচনে আপনারাও প্যানেল দিতে পারেন। যদি একক প্যানেল দেয়া সম্ভব না হয়, ছাত্র আন্দোলনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন, যাতে ইসলামপন্থীরা যৌথ প্যানেল দিতে পারেন। বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন। আমি মনে করি আপনারা এক পা এগিয়ে গেলে তারা আপনাদের দিকে ১০ পা এগিয়ে যাবে। সেই মানের দক্ষ এবং যোগ্য নেতৃত্ব তারা তৈরি করে ফেলেছে।

আমি জানি আমার এসব কথা নিন্দুকদের অনেকেই কানে তুলবেন না। ভুল পথ থেকে ফিরে আসবেন না। বরং ওঁৎ পেতে আছেন, ১১ তারিখ সন্ধ্যার জন্য। ছাত্র আন্দোলনের প্যানেল থেকে কেউ নির্বাচিত হতে না পারলেই বিকৃত উল্লাসে ফেটে পড়বেন। কাটা ঘা’য়ে নুনের ছিটা দেয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু আমার মনে হয় তাতে খুব বেশি লাভ হবে না। ছাত্র আন্দোলন যে সড়কের সন্ধান পেয়েছে সেখানে দাঁড়িয়ে নিন্দুকের পেছনে নষ্ট করার মতো অবশিষ্ট সময় তাদের হাতে থাকার কথা নয়।

শুভকামনা থাকলো ডাকসুর ইসলামপন্থী প্রতিদ্বন্দীদের জন্য

মন্তব্য করুন