শপথ নিতে চান মনসুর, মুকাব্বির; শপথ নিলেই পেতে হবে দলীয় শাস্তি

প্রকাশিত: ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান আগামী ৭ মার্চ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তারা। তবে তারা শপথ নিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল “গণফোরাম” থেকে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম।

শপথ নিলে শাস্তি পাওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন গণফোরামের একাধিক নেতা। এদিকে শপথ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চে শপথ গ্রহণ করার জন্য আমরা দুজন সংসদ সচিবালয়কে চিঠি দিয়েছি।

গত ৩০ ডিসেম্বর সম্পন্ন হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সাত আসনে জয় পায়। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরাম দুই আসনে জয় পায়। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সুলতান মনসুর এবং গণফোরামের নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে মোকাব্বির খান নির্বাচিত হন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ পাঁচজন নির্বাচিত হন বিএনপি থেকে।

গত ৫ জানুয়ারি গণফোরামের এক বর্ধিত সভায় গণফোরামের দুই সদস্য এমপি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ড. কামাল। তবে পরদিন এক বিবৃতিতে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনৈক্য নেই বরং ৩০ ডিসেম্বর প্রশাসনের পর ভোটের অধিকার এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে জাতীয় ঐক্য আগের চাইতেও আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ আছে, থাকবে। এখানে আমরা আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সেদিনই তা প্রত্যাখ্যান করেছে।’

নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্তে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত এই দুই সংসদ সদস্য এতদিন শপথগ্রহণ নেননি। সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বাধীনতার মাস মার্চে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান শপথ নেয়ার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচনে সরকারের প্রতি কারচুপির অভিযোগ তুলে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করে আসছে।

মন্তব্য করুন