ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ভোটকেন্দ্র

প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯

পাবলিক ভয়েস: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কম হওয়ার কারণে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রিসাইডিং অফিসাররা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এলাকায় মোট ভোটারের হিসাবে গড়ে ১০ শতাংশ হারে ভোট পড়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সদ্য যোগ হওয়া ১৮টি করে ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারদের নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তাকে হাজির হতে হয়েছে গতকাল বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার মধ্যে।

ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটাররা সাড়া দেননি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অভিজাত এলাকা গুলশান-২ এর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে চারটি কেন্দ্রের।

সেখানে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার প্রমোদ কুমার নাথ সাহা বলেন, দুটি নারী কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ২০৮৬ এবং ২১০৮ জন। বেলা ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্র দুটিতে ভোট পড়েছে যথাক্রমে ৪৫০ ও ৯৩০টি। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বসে থাকতে দেখা গেছে।

একই অবস্থা মানারাত স্কুলের পুরুষ কেন্দ্র দুটিরও। সেখানে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার বিধুভূষণ রায় বলেন, পুরুষদের একটি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৬৬০টি। সেখানে মোট ভোটার ২৫৯৮ জন। আরেকটি কেন্দ্রে ২ হাজার ৪শ’ ৮৬ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭৬০ জন।

আজ বৃহম্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ শাফিন আহমেদ।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালের নির্বাচনে অনিয়মের কারণে ভোটাররা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এ কারণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে আসছেন না।

তিনি আরো বলেন, ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো নয়। বিগত সময়ের কয়েকটা নির্বাচনে এত অনিয়ম হয়েছে যে, ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ভোট দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

মানারাত স্কুল ছাড়াও বারিধারার কূটনৈতিক এলাকা, শাহজাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাখালীর কড়াইল বস্তির ভোটকেন্দ্রে গিয়ে একই খবর পাওয়া গেছে।

এসব কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসাররা বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে ভোটারদের উপস্থিতি কম হবে বলে আশঙ্কা ছিলো। তবে এত কম হবে তা কল্পনা করার মতো নয়। ভোটারদের কোনো উপস্থিতি না থাকলেও আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

তারা বলেন, গতকাল বুধবার রাত থেকে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ভোটের প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। কখন সব কাজ শেষ হবে তার কোনো সময় বলতে পারছি না। তবে এসব কিছু ভালো লাগতো যদি ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক হতো।

মন্তব্য করুন