আজ বিশ্ব ইজতেমার মুনাজাত

প্রকাশিত: ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯

হাছিব আর রহমান

আলমি শুরার তত্বাবধানে পরিচালিত বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি)। গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আছরের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমার (আলমী শুরার তত্বাবধানে পরিচালিত অংশ) আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে। জানা গেছে সকালে ফজরের নামাজ বাদ আম বয়ানের পর ১০.০০ টার দিকে হতে পারে আখেরী মুনাজাত।

মুনাজাত পরিচালনা করবেন দাওয়াত ও তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বি ও আলমি শুরার ১৩ জনের অন্যতম সদস্য হাফেজ মাও. জুবায়ের।

পড়ুন : বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত করবেন কে?

আখেরী মুনাজাতে অংশ নেবেন লাখো ধর্মপ্রান মুসুল্লিরা। কেবলমাত্র ইজতেমা মাঠে অবস্থানরত মুসুল্লিরাই নয় আখেরী মুনাজাতে অংশ নিতে ঢাকার আশপাশ থেকে অনেকেই ইজতেমা মাঠে যাবেন বলে জানা গেছে। এবং তাদের আসা-যাওয়ার জন্য রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যাবস্থাপনা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

পড়ুন : সারা দেশ থেকে বিশ্ব ইজতেমায় ছুটছেন আলেম ওলামারা

এছাড়াও আখেরী মুনাজাতে অংশ নেবেন হেফাজতে ইসলামীর আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের আগে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হয়ে মুনাজাত পর্যন্ত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন আল্লামা শফীর পুত্র মাওলানা আনাস মাদানী।

পড়ুন : জুমার নামাজ আদায় করতে ইজতেমা মাঠে আল্লামা আহমদ শফী

গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারি টঙ্গীতে তুরাগ তীরে শুরু হওয়া বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন লাখো সংখ্যার মুসুল্লিরা। এবং তারা বিশ্ব ইজতেমা বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দিন : আগত মুসল্লিদের প্রতিক্রিয়া

সরকারী বর্ণনা মতে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা শুরু হলেও বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু করা হয়েছে বিশ্ব ইজতেমা। অনাকাঙ্ক্ষিত ছোট দু-একটি ঘটনা ছাড়া সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়েছে লাখো লাখো মুসলমানদের এই অন্যতম গণজমায়েতটি।

সুষ্ঠুভাবে বিশ্ব ইজতেমা পরিচালনার আহবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

এবারে বিশ্ব ইজতেমার এই তিনদিনে বিদেশী প্রায় সাতশ মেহমানদের উপস্থিতি ছিলো বলে জানিয়েছেন ইজতেমার মাঠে দায়িত্বরত তাবলীগের জিম্মাদার এনামুল হাসান।

ইজতেমায় এসেছেন তাবলীগের বেশিরভাগ মুরুব্বীরা
দাওয়াত ও তাবলীগের আলমি শুরার অন্যতম সদস্য মাও. আহমদ লাট ও মাও. ইবরাহীম দেওলাসহ তাবলীগের বেশিরভাগ মুরুব্বীরাই এবারের ইজতেমায় উপস্থিত হয়েছেন। মাও. তারিক জামিলের উপস্থিতির সম্ভাবনাও ছিলো। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। ইজতেমা মাঠে পৌঁছে মাও. আহমদ লাট প্রথম দিনের মাগরীবের নামাজের পর আম বয়ান করেছেন। এছাড়াও তাবলীগের উসূল মোতাবেক মাঠে বেশ কিছু খাস বয়ানও হয়েছে। ছাত্রদের, আলেমদের, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষকসহ প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা খাস বয়ান হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার মাঠে।

পড়ুন : ইজতেমায় আসছেন তাবলীগের বেশিরভাগ মুরুব্বীরা

ইজতেমার মূল কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া শুক্রবারের (১৫ ফেব্রুয়ারি) আমল ছিলো, বাদ ফজর বয়ান করেছেন আলমি শুরা ও আহলে শুরা রায়বেন্ড পাকিস্তানের মুরুব্বী মাওলানা জিয়াউল হক। তার বয়ান ভাষান্তর করেছেন মাওলানা নুরুর রহমান (মঈন শুরা বাংলাদেশ)

খাস বয়ানের মধ্যে ওলামাদের মাঝে বয়ান করেছেন : মাওঃ ইব্রাহিম দেওলা (ভারত) মাদরাসা ছাত্রদের বয়ান করেছেন : মাওঃ আকবর শরীফ (রায়বেন্ড পাকিস্তান), কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে খাস বয়ান করেছেন : প্রফেসর সানাউল্লাহ (আলীগড় ভারত) জুমারর খুতবাহ দিয়েছেন হাফেজ মাওঃ জুবাইর সাহেব (আলমি শুরা সদস্য ও আহলে শুরা বাংলাদেশ) বাদ জুমা বয়ান করেছেন শেখ গাসসান (আহলে শুরা মক্কা মদিনা) বাদ আছর বিবাহের আমল ও বয়ান করেছেন, মাওঃ জুহাইরুল হাসান সাহেব (আলমি শুরা ও আহলে শুরা ভারত) বাদ মাগরিব বয়ান করেছেন- মাওলানা ইব্রাহিম দেউলা সাহেব (আলমি শুরা) ভাষান্তর করেছেন, হাফিজ মাওলানা জোবায়ের সাহেব। (আলমি শুরা ও আহলে শুরা বাংলাদেশ)

ধারণা করা হচ্ছে, মাশওয়ারা (সিদ্ধান্ত) করে আজ পরবর্তী বছরের ইজতেমা কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়েও একটি সিদ্ধান্ত দেয়া হতে পারে।

আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি মুনাজাতের পর বিশ্ব ইজতেমার কার্যক্রম আরো দুদিন চলবে নিজামুদ্দীনপন্থী মাওলানা সা’দ অনুসারীদের তত্বাবধানে। সে পর্বের আখেরী মুনাজাত হওয়ার কথা আছে রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)

আরও পড়ুন : 

মন্তব্য করুন