শিক্ষা সফরে অবাধ মেলামেশা ও মাদকের সয়লাব

প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

সম্পাদকীয়-

শিক্ষা সফর : কিছুর শেখার জন্য করা হয় এই সফর। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা জমিনে ভ্রমন করো। ভ্রমণ করার দ্বারা অনেক কিছু জানা যায়, অনেক কিছু শেখা যায়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দর্শনীয় এলাকায় শিক্ষা সফরের প্রচলন রয়েছে আমাদের সমাজে। কিন্তু এ শিক্ষা সফর দিয়ে শিক্ষার্থীরা কি শিখতে পারছে? নাকি শিক্ষার অবনতি হচ্ছে?

শিক্ষা সফরের নামে গান-বাজনা, ছেলে-মেয়ের নৃত্য ও খাবার-দাবারের আয়োজন করা হয়। আর এসব আয়োজনের মাঝেই চলে যতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড। সফরগুলো এখন আর শিক্ষা সফরের আওতায় নেই বললেই চলে। শিক্ষা সফরের নামে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রেমের আসর জমায়। যদিও অভিবাবকরা মনে করেন তাদের ছেলে-মেয়ে শিক্ষা সফরে গিয়েছে এবং সুস্থ পরিবেশে বেরিয়ে নিশ্চয়ই কিছু শিখছে!

অথচ অনৈতিক কর্ম সম্পাদনের সুযোগ হিসেবেই এই শিক্ষা সফরকে ব্যবহার করছে ছেলে-মেয়েরা। পাবলিক বাস কিংবা পাবলিক প্লেস, কোনো জায়গাই ওদের কাছে পাবলিক নেই, সবটাই যেনো ওদের অভয়ারণ্য! যেকোনো বয়স বা শ্রেণি-পেশার মানুষের সামনেই ওদের পশুসুলভ আচরণ দেখা যায়। এগুলো বড়ই লজ্জার।

শিক্ষা সফরের নামে এই ভ্রমণ বন্ধ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। রক্ত পানি করা আর ঘাম ঝরানো শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ ছেলে-মেয়ের পেছনে আনন্দ চিত্তে ব্যয় করেন বাবা। কিন্তু সেই বাবা যদি জানতেন তার আদরের ধন ছেলে কিংবা মেয়ে সেই অর্জিত অর্থ কু-পথে ব্যয় করছে, তাহলে নিশ্চিত ওই বাবার হার্টফেল করার অবস্থা হতো। এই সময়ের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরা বাবা-মা’র ভালোবাসার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নানা ধরণের অন্যায় করে বেড়াচ্ছে।

শিক্ষা সফরের মতো ভালো ও শিক্ষণীয় কোনো বিষয়ই হয় না। কিন্তু সেই শিক্ষা সফরে বেরিয়ে এমন কোনো অন্যায় নেই যা ওরা করে না সফরকারীরা৷ মাদক সেবন থেকে শুরু করে “অবাধ মেলামেশা” (যৌনতা) কোনোটাই বাদ রাখে না ওরা।

শিক্ষা সফর এখন আর শিক্ষা সফর নেই, সেটা যেন ‘অবাধ মেলামেশা’র সফরে রূপ নিয়েছে। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, বান্দরবান, কিংবা কুয়াকাটা, কোথাও নেই সুস্থ/ভদ্র পরিবেশ। সব জায়গায় শিক্ষা সফরের নামে চলে অবাধ মেলামেশা। যুবসমাজের চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে সকলকে এখনই উদ্যোগী হতে হবে। এটা সামাজিক সমস্যা, সামাজিক ভাবেই এর সমাধান হতে হবে।

মন্তব্য করুন