কোরআন বিকৃতির দায়ে কথিত বক্তার শাস্তি দাবি করলেন মুফতী মিছবাহ

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট: সুরে সুরে নিজের বানানো আরবী লাইনগুলোকে কোরআনের আয়াত বলে চালিয়ে দেওয়া গোপালগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম নামে কথিত এক বক্তার শাস্তি দাবি করেন ইসলামিক আলোচক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ (কুয়াকাটা)।

মুফতী মিছবাহ বলেন, আমি বেশ কিছু ভিডিওতে দেখেছি এই বক্তা কোরআনের আয়াত বিকৃত করে সরলমনা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তার তিলাওয়াতের ধরণ ও বডি লেঙ্গুয়েজও আপত্তিকর৷ একটা ভিডিওতে দেখা যায় তিনি বানিয়ে বানিয়ে কোরআনের আয়াত বিকৃতি করে পড়ছেন! এভাবে কোরআনের আয়াত বিকৃত করা চরম পর্যায়ের ধৃষ্ঠতা এবং অন্যায়। এ অন্যায়ের কড়া শাস্তি হওয়া উচিৎ। আমি তার কঠোর শাস্তি দাবি করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোপালগঞ্জে বাড়ি পরিচয় দেওয়া নজরুল ইসলাম নামে এই বক্তা বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ করে বেড়ান এবং দেশের প্রথম সারির আলেমদের নামে বিষদ্গার করেন। হেফাজতের আমীর আল্লামা আহমদ শফী থেকে শুরু করে দেশের বেশিরভাগ আলেমই তাঁর কাছে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন।

তাঁর বেশ কিছু ওয়াজের ভিডিও শুনে তাঁর বিভ্রান্তিকর কথাবার্তার আরও অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ওয়াজে তিনি নিজেকে ডক্টর দাবি করেন। প্রথমে তার দাবি ছিল তিনি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, কিন্তু এখন বলছেন মিশরের আল আযহারে পড়েছেন। এক বক্তৃতায় বলেন, কারী আব্দুল বাসেত রহ. নাকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ২২ হাজার হাদিসের হাফেজ তিনি এবং ৬ বছর বয়সে মাত্র ৬ মাসে কোরআনের হাফেজ হয়েছেন! তার মা ছিলেন কোরআনে হাফেজ এবং দাওরা পাশ করা আলেমা। তার দাবি মতে তিনি ৩৪ বার হজ্ব করেছেন এবং ওমরাহ-সহ হজ্ব হয়েছে ৮০/৯০ বার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আত্বীয় বলেও দাবি করেন। তার ঐ ভিডিও আলোচনায় আরও বলতে শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রী তাকে চাচা বলে ডাকেন। কওমী মাদরাসার স্বীকৃতিও প্রধানমন্ত্রীকে সে-ই দিতে বলেছে! তার কথামতো স্বীকৃতি দিয়ে হুজুরদের থামিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এমন আরও অনেক উদ্ভট কথাবার্তা বলে বেড়ান ওয়াজের নামে।

এ ধরনের একজন বিকৃত চিন্তা-চেতনার লোক ধর্মের ও দেশের ক্ষতি করছে বলেই মতামত দিচ্ছেন অনেকে। তাই তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো দরকার বলে মতামত তাদের।

তার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও বিশ্লেষণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

মন্তব্য করুন