রাজনীতির চাল : নীতির রাজনীতি

প্রকাশিত: ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০১৯

সম্পাদকীয়: প্রতিটি দেশের জন্য রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক দল রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনভুক্ত প্রায় চল্লিশটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এরমধ্যে বাম ডান যেমন আছে, আছে ইসলামিক রাজনৈতিক দলও।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীতির কোনো ভালাই নেই। বাংলাদেশে রাজনীতির নামে চলে চালবাজি, পেটনীতি, দলনীতি ও স্বজনপ্রীতি।

রাজনীতি কেন? রাজনীতি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, গরীব দুখী মেহনতী মানুষের পাশে দাঁড়াবার জন্য।

কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি নিজের জন্য, দলের জন্য, সজনের জন্য, রাজনীতি করলে কারি কারি টাকা মেলে, বিদেশে বাড়ি কেনা যায়, দেশে মিল ফ্যাক্টরি করা যায়, দামি গাড়িতে চড়া যায়, ক্ষমতা পেলে পেশীশক্তির বলে অনেক কিছুই অর্জন করা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিকরা সম্ভবত এজন্যই রাজনীতি করেন।

অথচ উচিত ছিল আগে নীতি পরে রাজনীতি। নীতি বিসর্জন দিয়ে রাজনীতি করা আর দেশকে ধ্বংস করা দুটোই সমান। আজ দেশের যে দুরাবস্থা, তা শুধুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। এ দেশের রাজনীতিবিদরা গরিবের পাশে দাঁড়াযন, কিন্তু সেটা গরিবের জন্য নয় নিজের দলের জন্য, মানুষকে দেখার জন্য।

দেশে শিশু নির্যাতন হচ্ছে, গৃহকর্তা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে অসংখ্য অগনিত, গুম-খুন-দখলবাজি সবই চলছে সীমাহীন। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের দেখা যায় শুধু ভাইরাল হওয়া ভিকটিমের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু সহায়তা প্রদান করে সিরিয়াস মুডে ছবি তুলে প্রচার করছে! অথচ এরকম হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত, সেখানে সেতাদের দেখা যায় না!

যে গরিবের পাশে দাঁড়ালে বা যে অসহায় কে সহযোগিতা করলে পত্রিকার পাতায় নিউজ আসে না, ফেসবুকে অনলাইনে ভাইরাল হয় না, সেসব অসহায়দের সহযোগিতা করে না এ দেশের রাজনীতিবিদরা।

কিন্তু যারা নীতির রাজনীতি দোহাই দেয়, তারাও কি কথিত রাজনীতিবিদদের মতোই শুধু দলীয় স্বার্থ খোঁজবেন? তারাও যদি নীতির স্লোগানের আড়ালে দলীয় স্বার্থে খোঁজে, তাহলে কোনো কথা নেই। কিন্তু নীতির কথা বললে অসহায়’র পাশে এমনভাবে দাঁড়াতে হবে, দলীয় ফায়দার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।

এখন শীতকাল। রাস্তার পাশে গ্রামে-গঞ্জে অসংখ্য গরীব শিশু বৃদ্ধ নারী শীতে কাতরাচ্ছে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, শীতবস্ত্র দিতে হবে, তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে, তাতে দলের প্রচার হলো কি না, পত্রিকায় এলো কি না সেটা মুখ্য বিষয় হতে পারবে না।

আর যদি বিষয়টা এমনই হয়- অমুক জায়গায় গেলে, অমুকের পাশে দাঁড়ালে দল হাইলাইটস হবে, মিডিয়ায় সংবাদ আসবে, তাই টাকার বাণ্ডিল আর গাড়িবহর নিয়ে সেখানে যাবে। কিন্তু যেসব অশহায়’র পাশে দাঁড়ালে মিডিয়ায় আসবে না, দলের প্রচার হবে না, তাই সেখানে যাবে না, তাহলে নীতির বুলি আওড়িয়ে লাভ নেই। বরং কথিত চালবাজ রাজনীতিকদের মতোই রাজনীতি করা ভালো! নীতির কথা বলে গণমানুষকে ধোকা দেওয়ার কোনো মানে হয় না।

মন্তব্য করুন