টিআইবির রিপোর্টে সরকার ভীত ?

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০১৯

সম্পাদকীয়:

  • সরকারী দল বা বিরোধী দলগুলোর কেউই চিন্তামুক্ত নয়
  • টিআইবির রিপোর্ট
  • নির্বাচন কমিশন টিআইবির রিপোর্ট আমলে নিচ্ছে না
  • টিআইবি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে; ওবায়দুল কাদের
  • ঐক্যফ্রন্টের নিরব ভূমিকা
  • ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ

টিআইবির রিপোর্ট ও বিরোধী দলগুলোর নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক অবস্থান, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের অভিনন্দন, সব মিলিয়ে তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। সরকারী দল বা বিরোধী দলগুলোর কেউই চিন্তামুক্ত নয়

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলনের পুননির্বাচন দাবি, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ, রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, মহাজোটের শরীক দলগুলোর নাখোশী, অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন সংস্থার ফুল দিয়ে বরণ করা, অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের অভিনন্দন বার্তা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা, শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা বলার সুযোগ নেই বিশ্লেষকদেরও! অবস্থা বা পরিস্থিতি এমন যে, অগ্রিম কিছুই বলা যাচ্ছে না।

টিআইবির রিপোর্টে নড়েচড়ে বসছে সবাই। বিরোধী শক্তিগুলো পুননির্বাচনের দাবী কার্যকরে বাধ্য করতে পারবে সরকারকে, নাকি সরকার তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবে, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে টিআইবির রিপোর্টে যেমন সরকারের পায়ের নিচের মাটি সরে যাবার অবস্থা, ঠিক তেমনি প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের অভিনন্দনও বিরোধী দলগুলোকে পুননির্বাচন সম্পর্কে করেছে হতাশ। তবে যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০ টি আসনের ওপর পর্যবেক্ষণ করে ৪৭ টিতেই অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বাংলাদেশ শাখার নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, তাদের গবেষণা ও তথ্য সঠিক এবং সত্যতার প্রমাণ রয়েছে। নির্বাচনে নানা ধরনের অভিযোগের কারণে সবার কাছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি এবং নির্বাচন নিয়ে অনেকেরই অভিযোগ রয়েছে।

তাদের গবেষণায় যেসব অনিয়ম পেয়েছে-

-গণমাধ্যমকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা
-ভোটের আগের রাতেই সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা
-ভোটের নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া
-জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় সিল মারতে ভোটারদের বাধ্য করা
-কেন্দ্র দখল করে জনসম্মুখে নির্দিষ্ট মার্কায় সিল মারা
-জাল ভোট দেওয়া
-ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং
-প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করা।

টিআইবির পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‌টিআইবি মনগড়া রিপোর্ট বানিয়েছে। তাদেন রিপোর্টের কোনো সত্যতা নেই। আইনের আওতায় থেকেই যথাযথ নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে। রিপোর্টটি পূর্ব নির্ধারিত বলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে- টিআইবির বিশ্লেষণ বা পর্যবেক্ষণ কোনো পর্যবেক্ষণ নয়, ওটা একটা প্রতিবেদনমাত্র। ভোট বা নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য নিতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে নিতে হবে, বাইরের কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি থেকে নয়। টিআইবি সঠিক নিয়মে তা করেনি। ফলে নির্বাচন কমিশন টিআইবির করা ঐ রিপোর্ট আমলেও নিচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

এদিকে টিআইবির রিপোর্ট প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রূপকথার গল্প শোনাচ্ছে টিআইবি। নির্বাচন হয়ে গেছে আজ অনেকদিন। নির্বাচনের সময় তাদের খবর ছিল না, এতদিন পর এসে রিপোর্ট প্রকাশ করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা। তথ্যমন্ত্রীর হাছান মাহমুদ বলেছেন, টিআইবির রিপোর্ট একপেশে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

টিআইবির রিপোর্ট সম্পর্কে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট চুপ রয়েছে। তাদের কোনো বক্তব্যের এখনও পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের পর থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুননির্বাচনের দাবি করে যাচ্ছে। ভোট সুষ্ঠু হয়নি, ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, যারা ঢুকেছে তাদেরকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে, রাতেই সিল মেরে রাখা হয়েছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখাও করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও অংশ নেননি।

নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আলোচনায় থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুননির্বাচন দাবি করেছে। দলটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন দলের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।

মতবিনিময় সভায় প্রার্থীরা যেসব তথ্য ও অভিযোগ করেন-

-হাতপাখার অধিকাংশ এজেন্ট বের করে দেওয়া
-হাতপাখার ভোটারদের প্রকাশ্যে অন্য মার্কায় ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ ও বাধ্য করা
-সকাল ১১টার আগেই ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া
-ভোটারদের নখে কালি লাগিয়ে ভোট না দিতে দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া
-ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে অন্য মার্কায় সিল মেরে দেওয়া
-রিটার্নিং অফিসার হাতপাখার প্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহন না করা/অস্বীকার করা
-হাতপাখার এজেন্টদের ওপর হামলা
-ঢাকা-৬ আসন-সহ দেশের কয়েকটি আসনে হাতপাখার কর্মী গুম
-আগের রাতেই ব্যালট বাক্স সীল মেরে রাখা এবং
-হাতপাখার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ভোটারদেরকে অন্য মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দলের মনোনীত প্রার্থীরা।

প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে তাদের। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের লোকজন নির্দিষ্ট দলের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে বলে জানান তারা।

মন্তব্য করুন