ড. কামালদের চরিত্রই এমন: হাবিবুর রহমান মিছবাহ (ইন্টারভিউ)

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

পাবলিক ভয়েস: বাংলাদেশ দুই ধরণের শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। স্কুল ও মাদরাসা। স্কুলের মধ্যে আবার প্রাইভেট ও সরকারী এবং মাদরাসার মধ্যে কওমী এবং আলিয়া ভাগ রয়েছে। বাংলাদেশে মুসলমানদের জন্য মাদরাসা শিক্ষার যেমন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তেমনি জাগতিক/জেনারেল শিক্ষারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।  এ প্রসঙ্গে আলাপ করতে পাবলিক ভয়েসের সহ-বার্তা সম্পাদক এস. এম সবুজ মুখোমুখি হয়েছিলেন এ সময়ের জনপ্রিয় ওয়ায়েজ, লেখক, বিশ্লেষক ও সমাজকর্মী মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ’র। এ প্রসঙ্গে পাবলিক ভয়েসের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি। ছাড়াও কথা হয়েছে বর্তমান সময়ে ড. কামালের আল্লামা আহমদ শফিকে নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়েও।

এস. এম সবুজ : আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন আপনি;

মুফতী মিছবাহ: আলহামদুলিল্লাহ।

এস. এম সবুজ: বর্তমান সময়ের ছেলে মেয়েদের জন্য জেনারেল শিক্ষা তথা- স্কুল শিক্ষার কতটুকু প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করেন আপনি?

মুফতী মিছবাহ: হ্যাঁ অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনের ধরনও পাল্টায়। বর্তমান সময়ে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জাগতিক শিক্ষার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি দীনি শিক্ষাও অতি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, দীনি শিক্ষা ব্যতিক চরিত্র গঠন করা প্রায় অসম্ভব।

এস. এম সবুজ: জেনারেল শিক্ষার জন্য কি স্কুলেই পড়াতে হবে, অন্য কোনো মাধ্যম হতে পারে না?

মুফতী মিছবাহ: না, জেনারেল শিক্ষার জন্য স্কুল হওয়াটা জরুরী মনে করি না। বরং মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষা সিলেবাস করার মাধ্যমে জেনারেল শিক্ষা অর্জন করা যেতে পারে। মাদরাসা শিক্ষার আওতায় জাগতিক শিক্ষার সমন্বয় করা অত্যন্ত জরুরী বলেও মনে করি। অথবা মাদরাসার আওতায় স্কুল শাখা করে তার মাধ্যমেও জেনারেল শিক্ষা অর্জন করা যেতে পারে।

এস. এম সবুজ: স্কুলে ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গে লেখাপড়া করে, এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?

মুফতী মিছবাহ: আমি মনে করি মাধ্যমিক থেকে ছেলে-মেয়ের শিক্ষাকক্ষ বা বিদ্যালয় সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা হওয়া অবশ্যকরণীয়। কারণ বর্তমান যুগ ফ্রি মাইন্ডের যুগ। এই যুগে ছেলে-মেয়েরা খুব সহজে মিশে যায়, কাছাকাছি এসে যায়। টিভি মিডিয়া ও অনলাইনের মাধ্যমে বর্তমান সময়ের ছেলে-মেয়েরা বয়সের আগেই সবকিছু জেনে যায়। ফলে ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গে অবাধে চলাফেরা করার সুযোগ পেলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। বাস্তবে হচ্ছেও তাই!

এস. এম সবুজ: বর্তমানে শিশু ধর্ষণের প্রবণতা খুব বেশি, কিছুদিন আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের হাতে এক ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে, এর পেছনে কী কারণ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

মুফতী মিছবাহ: দ্বীনি শিক্ষার অভাব। ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে জেনারেল শিক্ষার প্রতি যে গুরুত্ব রয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে দীনি শিক্ষার প্রতি যদি তার ১০ ভাগও গুরুত্ব থাকতো তাহলে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার স্বাক্ষী আমাদের হতে হতো না।

শিক্ষক পিতার মতো, ছাত্রী সন্তানের মতো। একজন পিতার (শিক্ষক) কাছে সন্তান (ছাত্রী) যৌন হয়রানির শিকার! এর থেকে লজ্জা ও ঘৃণার কী হতে পারে! দীনি জ্ঞানের অভাব, ফ্রী মাইন্ড, ঘরে ঘরে ডিস লাইন ও ইন্টারনেটের অশ্লীলতা এর জন্য দায়ী।

এস. এম সবুজ: এই যে প্রতিদিন অসংখ্য ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার সংবাদ শোনা যাচ্ছে, এর পেছনে কী কারণ রয়েছে বলে মনে করেন?

মুফতী মিছবাহ: ঐ যে বললাম ফ্রী মাইন্ড! ফ্রী মাইন্ড এবং নারীবাদের নারী অধিকারের নামে নারীদেরকে রাস্তায় নামিয়ে আনা এবং নারীদের অশালীন পোশাকও এর জন্য দায়ী। বিবাহপূর্ব প্রেমের সম্পর্কের কারণেও এসব হয়ে থাকে।

এস. এম সবুজ:: অনেকে মনে করেন পোশাক কোনো ফ্যাক্ট নয়, পুরুষের মন ফ্রেশ থাকলেই নারী যৌন হয়রানির শিকার হবে না।

মুফতী মিছবাহ: এটা একটা খোঁড়া যুক্তি। প্রত্যেকটা মানুষের মাঝে আল্লাহ তাআলা সত্তাগতভাবে নারীর প্রতি পুরুষের এবং পুরুষের প্রতি নারীর আকর্ষণ দিয়েছেন। সেখানে নারী যদি পুরুষের সামনে সেক্সচুয়াল ভঙ্গিতে ঘোরাফেরা করে, তখন সুস্থ পুরুষও অসুস্থ হবে। ঐ সময় বখাটেমনারা নিজেদের কন্ট্রোল করতে পারে না।

এস. এম সবুজ: এর থেকে উত্তরণের পথ কী?

মুফতী মিছবাহ: দীনি শিক্ষা বাধত্যমূলক করা, বাংলাদেশের সমস্ত সাইট থেকে যৌন উত্তেজন দৃশ্য উঠিয়ে দেওয়া, নারী শালীন পোষাকে বাইরে বের হওয়া, বিবাহপূর্ব ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক অবৈধ ঘোষণা করা এবং বখাটেদের জন্য কঠোর ও কার্যকরী আইন জারি করা।

এস. এম সবুজ: শেষ প্রশ্ন; আল্লামা শাহ আহমদ শফীর একটি বক্তব্য নিয়ে মিডিয়াপাড়া এবং অনলাইনে তোলপাড় চলছে। তিনি বলেছেন, ফোর ফাইভের ওপর মেয়েদের স্কুলে না পাঠাতে, এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও বিভিন্ন মহলের খ্যাতিমান ব্যক্তি এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। এমনকি ড. কামাল হোসেনেও আইনি ব্যবস্থা চেয়েছেন!

মুফতী মিছবাহ: আল্লামা শফীর বক্তব্যকে আমিও সমর্থন করি। মূলত তিনি তাঁর পরবর্তী লিখিত বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন- তিনি মেয়েদের স্কুলে পড়াবার বিরোধী নন। যেখানে তিনি কয়েক লক্ষ মেয়ে শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, সেখানে তিনি মেয়েদের শিক্ষার বিপক্ষে যাবেন এটা যুক্তিযুক্তও নয়। তিনি মূলত পরিবেশের কথা বলেছেন।

পরিবেশ নিরাপদ না হলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে বারণ করেছেন। এটা নারীরবান্ধব বক্তব্য, নারীবিরোধী নয়। আমি তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। পরিবেশ নিরাপদ না হলে মাদরাসায়ও পাঠানো যাবে না। মোটকথা স্কুল, মাদরাসা কিংবা শপিং, নারীদের জন্য পরিবেশ নিরাপদ না হলে তাদের ঘরের বাইরে পাঠানো উচিৎ নয়।

ড. কামালের ব্যাপারে বলব, যাদের নীতি-চরিত্র ঠিক নেই, তাদের মুখে কারও বিচার চাওয়া মানায় না। আমি মনে করি ড. কামাল নারীবাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় বিচার চেয়েছেন। উনি বক্তব্য বিশ্লেষণ করেননি

উনারা রাজনীতি করেন, রাজনীতির ফায়দা তোলতে উনাদের যখন যা বলা দরকার এবং করা দরকার, উনারা তখন তাই বলেন, তাই করেন। আল্লামা আহমদ শফীর বিরুদ্ধে উনার বিচার চাওয়াটাও তারই অংশ বলে মনে করি৷ উনাদের মতো রাজনীতিবিদদের কোনো চরিত্র আছে বলে মনে করি না।

এস. এম সবুজ: আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

মুফতী মিছবাহ : আপনাদেরকেও

মন্তব্য করুন