শীতার্তদের আর্তনাদ; তৎপরতা নেই সেবা সংস্থাগুলোর

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯

সম্পাদকীয়: সংখ্যানুপাতিক হারে বাংলাদেশে খেটে খাওয়া এবং সহায়-সম্বলহীন মানুষের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। আগের তুলনায় কর্মসংস্থান ও আয়-বাণিজ্যের পার্সেন্টেজ বাড়লেও এখনও অসংখ্য সহায়-সম্বলহীন মানুষ রয়েছে আমাদের দেশে। যাদের অর্থ নাই। নেই বাড়ি ঘরও। ব্যবস্থা নেই আয়-রোজগারেরও।

বাংলাদেশের ভিক্ষুকের সংখ্যাও কয়েক লক্ষ! যাদের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ভিক্ষাবৃত্তি। দুর্যোগপূর্ণ সময়গুলোতে এরা হয়ে পড়ে আরও দিশেহারা। অসংখ্য অসহায় সুবিধাবঞ্চিত শিশু নারী বৃদ্ধের এখন রাস্তার ডাস্টবিনের ঢাকনাটাই শেষ ভরসা। পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ছোট্ট চাউনীটাই ছাঁদ। এখানেই তারা সুখ খোঁজার চেষ্টা করে।

সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিরা অসহায়দের পাশে দাঁড়াবে এটাই দুনিয়ার নিয়ম। ধনীরা গরিবদের পাশে নিয়মিত দাঁড়ালে বাংলাদেশের চিত্রটাই পাল্টে যেতো এতদিনে।

উত্তরাঞ্চলে প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বর্ষার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যায়। গবাদি পশু ভেসে যায় বানের পানিতে। জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলছে উত্তরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা। নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষের অবস্থাও একইরকম। শীত এলে তুলনামূলক এসব অঞ্চলে শীতের প্রকোপও থাকে বেশি। আর্থিক অনটনের কারণে বলার মতো তেমন কোনো শীতবস্ত্র নেই তাদের। সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থাকে তারা।

এবার শীতে সমাজের বিত্তশালী কিংবা সেবাসংস্থাগুলোর তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। অথচ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার শীতের তীব্রতাও বেশি। সাহায্য না পেয়ে অসহায় শীতার্তরা শীতে কাতরাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। সেবাসংস্থাগুলোরও উচিত সর্বাত্মক চেষ্টার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় শীতের প্রকোপ থেকে কিছুটা হলেও বাঁচতে পারে অসহায় শিশু নারী ও বৃদ্ধ।

মন্তব্য করুন