আল্লামা শফীর বক্তব্যে মুফতী মিযানুর রহমান সাঈদের মন্তব্য

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯
আল্লামা আহমদ শফীর ও মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ

পাবলিক ভয়েস: শাইখ যাকারিয়া রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, আসলে ইসলামের বিধি বিধানতো পরিষ্কার। হাজারো মহিলা সাহাবি জ্ঞান শিখেছেন। শিক্ষা পুরুষের জন্য যেমন নারীর জন্যও তেমন জরুরি। এতে ভুলের কোনো অবকাশ নেই। আমার মনে হয় হুজুর যেটা বলেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপট, অবস্থা, অবস্থান নিয়ে।

যে আমাদের শিক্ষাগারে নারীদের মান-সম্মান, সম্ভ্রম, ইজ্জত, তাদের রক্ষার পরিবেশতো অনেক জায়গায় সেই। সেই হিসেবে ইসলাম বলে, যদি তোমার ইজ্জতের ক্ষতি হয়, মান নষ্ট হয়, মান ইজ্জতকে নষ্ট করে তো সাধারণ শিক্ষা তো দূরে থাক, ইসলামী শিক্ষাও জায়েজ নেই। কোনো শিক্ষাই জায়েজ নেই।

আমার মনে হয় হুজুর বর্তমান পরিবেশের দিকে লক্ষ্য করে কথাটা বলছেন। মানে হুজুরের অজানা নয়, মেয়েরা দাওরা পর্যন্ত মাদরাসায় পড়তে পারলে স্কুলে পড়তে পারবে না কেন? এটা কোনো যুক্তিতেই আসে না এবং হুজুরের এমন মতামত হতে পারে। হুজুর ওই দিকটা দেখে বলছেন। হুজুরের পক্ষ থেকে এখন একটা জবাবও এসেছে যে, আমি নিষেধ করিনি, আমি পরিবেশের কথা বলছি।

উনি ব্যাখ্যাটা পরে দিয়েছেন, প্রথমে কথাটা বলেছেন। ব্যাখ্যাকে সামনে সামনে আনলে উনার কথা নিয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হবে না। এটাই বাস্তবতা আমি যতটুকু বুঝি। কারণ জাতীয় শিক্ষা, আধুনিক শিক্ষাকে ইসলাম মূল্যায়ন করে

। আল্লামা ওবায়দুল্লাহ সিন্দী তাফসিরি বলেছেন, জাগতিক শিক্ষা অত্যন্ত ভালো। তবে শর্ত হলো, শিক্ষার্থীরা নিজে যে, মুসলমান তার যে একজন আল্লাহ আছে, আল্লাহর গোলামি করা লাগে এই বিষয়টা যেন বিলুপ্ত না হয়। যদি কোনো শিক্ষা বা পরিবেশের কারণে আল্লাহকে ভুলে যায়, নিজের মুসলমানিত্ব ভুলে যায়, তাহলে শিক্ষাটা জায়েজ নেই।

এটাকে যদি ধরে রাখতে পারে তাহলে শিক্ষাটা অনেক ফলপ্রসূ এবং এটা মুস্তাহাব, সওয়াবের কাজ। আরেকটা শর্ত দিয়েছেন দেশ জাতির উপকারের জন্য শিক্ষা গ্রহণের নিয়ত যেন শিক্ষার্থীর অন্তরে থাকে। মুসলমানরা যাতে অন্যদের দ্বারস্ত হতে না হয় সেজন্য জাগতিক শিক্ষা অর্জন করে জাতি ও দেশকে উন্নয়ন করবোÑ এটা নিয়ত থাকতে হবে। আর মুসলানিত্বকে না ভুলতে হবে। এ দুইটা শর্ত থাকলে জাগতিক শিক্ষা বড় সওয়াবের কাজ।

আহমদ শফী আমাদের মুরব্বি, সারা বিশ্বের মুরব্বি। আমাদের বাইরে নন তিনি। উনি যখন কথা বলেছেন হয়তো শর্তটা লাগাননি। পরে উনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একজন বক্তার নিজস্ব ব্যাখ্যা আসার পর এটার অপব্যাখ্যা চালিয়ে দেয়া বৈধ হবে না, তার প্রতি অন্যায় হবে।

মন্তব্য করুন