দুজন দুজনার সাথে কথা বলুন হাসিমুখে; একটি সুখী সংসারে কর্তব্য

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

বিশেষ প্রতিবেদন: একই সাথে একই পথে দুজন মানুষের এক জীবনের পথচলার নাম দাম্পত্য জীবন। এ জীবনের শুরুটা সবারই বেশ মধুময় হয়। কিন্তু প্রাণোচ্ছল, উচ্ছ্বাসে ভরা দিনগুলো দুজনের কাছেই একসময় হয়ে পড়ে একঘেয়ে, অবসন্ন, নীরস। সবকিছুই পুরোনো মনে হয়। হয়তো দুজনেরই হারিয়ে যাওয়া সেসব দিনকে আবার রঙিন করে তুলতে, হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে ফিরে পেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু নানা কাজের চাপে হয়ে ওঠে না। কিছু ছোট ছোট ভুলে সংসার জীবনে নেমে আসে কষ্ট দুঃখ।

জীবনটা প্রাণোচ্ছল রাখতে খুব বেশি উদ্যোগের দরকার নেই। একটু মনে রাখা, একটু চেষ্টাতেই জীবনটা হয়ে উঠতে পারে বর্ণীল। চলুন কিছু সুন্দর নিয়ম জানিয়ে দেয়া যাক একটি সুখী জীবনের জন্য।

১) স্ত্রীর সাথে কথা বলুন হাসিমুখে
সারা দিনের কর্মব্যস্ততায় হয়তো আপনি ভীষণ ক্লান্ত। কিছুটা বিরক্তও। তবু মুখে একটু হাসি রাখার চেষ্টা করুন। দেখবেন ধীরে ধীরে সবকিছুই অনেক হালকা মনে হবে।

২) সময় বের করে ঘুরতে বেরিয়ে পড়া
মাঝে মধ্যেই বেরিয়ে পড়তে পারেন ছুটিতে। শুধু দুজনে। এতে করে একে অপরের কাছাকাছি আসবেন। না বলা অনেক কথা হয়তো বলা যাবে। মনে পড়বে বিয়ের শুরুর প্রেম। সম্পর্ক হয়ে উঠবে সজীব।

৩) একে অপরের কাজে সঙ্গ দেয়া
একটি সম্পর্ক সজীব রাখতে হলে একসঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। সংসার মানেই ভাগাভাগি। স্বামী, স্ত্রী একসঙ্গে রান্না করতে পারেন, ঘর গুছাতে পারেন, ঘর পরিষ্কার করতে পারেন। এমনকি সঙ্গী বা সঙ্গিনীর পছন্দের খাবারও রান্না করতে পারেন একসঙ্গে। মাঝে মধ্যে ঘরেই আয়োজন করতে পারেন ছোট খাটো অনুষ্ঠানের।

৪) ছোট ছোট উপহার দেয়া
সঙ্গীকে কখনো কখনো উপহার দিন। সেটি হতে পারে একগুচ্ছ ফুল অথবা ছোট্ট একটা চিরকুট। কিন্তু এতেই প্রকাশ পাবে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা। সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রশংসা করতে হবে মন খুলে। যত ছোট ব্যাপারই হোক, প্রশংসা করুন।

৫) একে অপরের হাতে হাত রাখা
প্রথমেই যা মনে রাখতে হবে, তা হলো প্রেমের কোনো বয়স নেই। বরং যতই বয়স বাড়বে, প্রেমের বন্ধন ততই দৃঢ় হবে। আর এই প্রেমের প্রকাশ ঘটাতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। সঙ্গীবা সঙ্গিনীর হাতে একটু হাত রাখা, হালকা স্পর্শ, জড়িয়ে ধরা ব্যস—এতেই পরস্পর অনুভব করতে পারেন হারিয়ে যাওয়া প্রেমের অনুভূতি।

৬) কষ্ট হলেও একে অপরকে সময় দেয়া
একে অপরকে সময় দিন। অন্তত যেকোনো এক বেলার খাবার এক সঙ্গে খান। এতে করে একে অপরের সঙ্গে চিন্তা ভাবনা ভাগ করে নিতে পারবেন সহজেই।

সবচেয়ে যা জরুরি, তা হলো ভুলেও কারও সঙ্গে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর তুলনা করবেন না। মনে রাখবেন, প্রত্যেক মানুষই তার নিজের মতো। কাজেই সঙ্গী যেমনই হোক, তাকে তার মতো করেই ভালোবাসুন।ছোটখাটো এসব বিষয় মাথায় রাখলেইজীবনটা হয়ে উঠতে পারে আরও সুন্দর। ছোট্ট নীড় হয়ে উঠতে পারে সত্যিই শান্তির। প্রাণখুলে গেয়ে উঠতে পারেন, ‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়।’

মন্তব্য করুন