জাতীয় ঐক্যে এগিয়ে আসা উচিত ইসলামী আন্দোলনকে

প্রকাশিত: ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০১৯

পাবলিক ভয়েস : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে আলোচনায় ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি কোনো জোটে যায়নি। এককভাবে নির্বাচন করে আলোচনায় এসেছে। দলটির আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই সংবাদমাধ্যমকে বিভিন্ন সময় বলেছেন, আদর্শ বিসর্জন দিয়ে তারা কোনো জোটে যাবেন না। এ জন্য তারা এককভাবে নির্বাচন করেছেন।

সারাদেশে তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণাও ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতপাখা নামক মার্কাটি এখন সবার পরিচিত একটি মার্কায় পরিণত হয়েছে। তৃণমূলে বেশ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে দলটি। দলটির আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেছেন এবং পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে ১৫ থেকে ২০ টি আসনে তারা বিজয় লাভ করতেন। কিন্তু সরকারের একতরফা ও প্রহসনের নির্বাচনের কারণে তারা কতো ভোট পেয়েছেন সেটাও জানতে পারেননি। তাদের দাওয়াত তৃণমূলে পৌঁছুছে, কিন্তু তার ফলাফল কী তা জানার সুযোগ পাননি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ (সদর আসন) থেকে নির্বাচন করেছেন। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বরিশাল সদরে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করতেন। কিন্তু ভোট ডাকাতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ভোটের দিন তার ১১ নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে সরকারদলীয় ক্যাডার কর্তৃক আহত হয়েছে। সারাদেশে ভোট ডাকাতির কারণে ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি করেছেন।

ইতোমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে পক্ষপাতমূলক একতরফা নির্বাচনের অভিযোগ দায়ের করে পুনঃনির্বাচনের দাবি করা হয়েছে।

দলটি যে জনপ্রিয়তা ও আস্থা অর্জন করেছে, এখন তাদের কাজ হবে এ আস্থা ধরে রাখা। ইতোমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, দাবির মিল থাকলে সেক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে তারা বসতে পারেন।

সব দলের কাছে ইসলামী আন্দোলনের যেভাবে কদর বেড়েছে, সেটা তাদের ধরে রাখতে হবে। দাবির মিল হলে ইসলামী আন্দোলনকে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বসা উচিত বলে মনে করি। রাজনৈতিক সঙ্কটে তাদের ভূমিকা রাখার এটাই সময়। তারা রাজনৈতিক ও দেশের এই সঙ্কটকালে যদি ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে গণমানুষের আরও আস্থা ও জনপ্রিয়তা কুড়াবে বলে বিশ্বাস করি। এই মুহূর্তে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারলে দলের ভাবমূর্তি বাড়বে বৈ কমবে না।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে ইসলামী আন্দোলনের যে গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে, তা ধরে রাখার জন্য হলেও অন্যান্য দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও বাড়াতে হবে।

তাদের নির্বাচনী কাজে যে সমস্ত কর্মীরা নিরলস শ্রম দিয়েছে, দলের সে সমস্ত কর্মীদের ধরে রাখা এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা দলটির জন্য অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি। কর্মী ধরে রাখা প্রত্যেক দলের জন্য একটি বড় কাজ। বিভিন্ন দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নেতারা তাদের কর্মীদের সঙ্গে কর্মচারীর মতো আচরণ করে। ইসলামী আন্দোলনকে এদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। দল যতো বড় হবে দলের কর্মীর সংখ্যাও ততো বাড়বে। বাড়বে সমালোচনাও। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে সমালোচনায় কান দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

দলটির মাঝে যে সমস্ত ত্রুটি বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের সে কমতিগুলো কাটিয়ে ওঠার মিশনে অগ্রসর হতে হবে। দলে স্বচ্ছ মেধা ও প্রচুর শিক্ষিত জনশক্তি সম্পৃক্ত করতে হবে। যে এলাকায় যে নেতাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়, সেসব নেতাদের এলাকায় এখন থেকেই নিয়মিত সময় দেওয়া এবং গণমানুষের সুখ-দুঃখের পাশে থাকা জরুরী। খেটে খাওয়া মানুষের অভাব পূরণে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা।

পাশাপাশি প্রশাসনিক, কূটনৈতিক এবং সর্বমহলে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা। শুধুমাত্র ইসলামিক ইস্যু নয় বরং রাষ্ট্রীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাদের কার্যকরী ভূমিকা রাখা। এখন থেকেই নির্বাচনী ফান্ড শক্তিশালী করা। যেহেতু তারা কর্মীদের অর্থ দিয়েই তাদের সাংগঠনিক কাজকর্ম সম্পাদন করে থাকেন, সেহেতু এখন থেকেই তাদের নির্বাচনী ফান্ড শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগী হওয়া।

দেশের মানুষ প্রধান দুই দলের বাইরে ইসলামী আন্দোলনকে বেছে নিতে পারবে যদি এ কাজগুলো তারা সঠিকভাবে করতে পারে। পাশাপাশি ইসলামী দলগুলোর সাথে তাদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে বলে মনে করি। আরও উদারতার পরিচয় দিতে হব তাদের। টুকটাক মতভেদ বা মতপার্থক্য যা রয়েছে, সেগুলোর উর্ধ্বে উঠে ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে হবে। অন্তত ইসলামী দলগুলো যদি এক হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশে ভিন্ন ধারার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরী হবে। জাতীয় ঐক্যে এগিয়ে আসা উচিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। স্বপ্ন যেহেতু দেখিয়েছে তারা, গনমানুষের ঐক্যের স্বপ্নের প্রত্যাশার প্রাপ্তিও তাদেরই ঘটাতে হবে।

এই নির্বাচনে তাদের কী কী ভুল ছিল সে ভুলগুলো মার্ক করে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য কার্যারী ভূমিকা নিতে হবে। দলটি যেভাবে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে গিয়ে এবং কোনো জোটে না গিয়ে একক শক্তি ও প্রভাব বিস্তার করেছে, গণমানুষের আস্থার জায়গা দখল করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের আদর্শ সম্পর্কে গণমানুষের মাঝে সঠিক ধারণা দিতে পেরেছে, সেই অবস্থান থেকে তাদেরকে আরও দৃঢ়প্রত্যয়ী হতে হবে। হতে হবে সহনশীল।

পথ অনেক পিচ্ছিল ও কন্টণযুক্ত। অতএব সমালোচনা পেছনে ফেলে তাদের এই আদর্শ ধরে রেখে সামনের দিকে এগোতে হবে। তারা যেভাবে সাংগঠনিক প্রোগ্রামগুলো করে আসছে, সেগুলোর ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে, শিক্ষাখাত এবং জনসেবামূলক কাজে প্রচুর অবদান রাখতে হবে। যেগুলোর কমতি রয়েছে দলটির মাঝে।

মন্তব্য করুন