শত বেদনার শ্রেষ্ঠ প্রেসক্রিপশন ‘মা’, সেই মা গণধর্ষিত! আমরা লজ্জিত!

প্রকাশিত: ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৯

সম্পাদকীয়: বাংলাদেশ। মাথা উঁচু করে যে নাম উচ্চারণ করি। যে নামটি উচ্চারণ করতেই ভেতর থেকে গর্ব চলে আসে। গর্ব হয় আমি বাংলাদেশের নাগরিক ভেবে। ১৯৭১ পরবর্তী পৃথিবীর সবথেকে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকেই উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। অবশ্য সে সম্ভাবনা এখনও হারিয়ে যায়নি। প্রশ্ন হলো সে সম্ভাবনাকে সামান্য স্বার্থে গলাটিপে হত্যা করছি না তো!

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আজ দেশের জন্য মহামারি আকার ধারণ করেছে। অশিক্ষিত বখাটেরা এখন রাজনীতির ব্যানারে দেশের বারোটা বাজাচ্ছে। শিক্ষিতরাও কাবু হচ্ছে রাজনৈতিক পঁচাগান্ধা মানসিকতায়। একটি দেশকে জাগিয়ে তুলতে যে ধরণের স্বচ্ছ জনশক্তি প্রয়োজন, তা রাজনৈতিকভাবে নিভিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ী, টেণ্ডারবাজ, অশিক্ষিত ও বখাটেরা গ্রাস করছে রাজনৈতিক অঙ্গন। ফলশ্রুতিতে দেশের ভবিবষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

খুন, ধর্ষণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও অপ-শাসনের বিরুদ্ধে যে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, সে দেশটাই আজ তার চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবেলায় দাঁড়িয়ে! রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি ব্যবসায়ী, পেশাজীবি, শিক্ষাঙ্গন ও ন্যায্য অধিকার। একটি স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক বৈপরিত্বের কারণে জননীকে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়! এর থেকে লজ্জার আর কী হতে পারে! অথচ কথিত বুদ্ধিজীবী কিংবা মানবাধিকার কর্তাদের কানে পানিই পৌঁছোয়নি সম্ভবত।

নোয়াখালীতে চার সন্তানের মা ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় সরকার দলীয় বখাটেরা গণধর্ষণ করেছে! সম্পাদকীয় লিখতে গিয়ে কী লিখব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই উপরোক্ত ভূমিকা টেনে লাইন লম্বা করা আর কি।

যে দেশে নিজের পছন্দ প্রয়োগ করলে ইজ্জত সম্মান বলি দিতে হয়, মেনে নিতে হয় পৈশাচিক নির্যাতন, পারি জমাতে হয় পরপারে, সে দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে আজ লজ্জাবোধ করছি।


একজন মা। পৃথিবীর সবথেকে প্রিয় শব্দ। যে শব্দটি আস্থা ও ভরসাস্থল। যে শব্দটি হাজার টেনশনের শ্রেষ্ঠ প্রেসক্রিপশন, সেই মা গণধর্ষিত! চার সন্তানের মা সন্তান ও স্বামীর সামনেই রেপ! অভিমানী এই মা যতোদিন বেঁচে থাকবেন, ততোদিন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে। জিন্দা লাশ যাকে বলে। দেশের প্রতি থেকে যাবে এক পৃথিবী ঘৃণা ও ধিক্কার। এই ধিক্কারের বোঝা বইতে পারব তো আমরা!


প্রিয় মাতৃভূমিকে মা বলে সম্বোধন করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। মায়ের জন্য তারা যুদ্ধ করেছেন। জীবনের বিনিময়ে মাতৃভূমি নামক মাকে মুক্ত করে গেছেন তার সন্তানদের (গণমানুষ) জন্য। নোয়াখালীর এক মা ধর্ষিতা হননি, ধর্ষণের শিকার আজ পুরো দেশ। মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে ধর্ষিত হচ্ছে প্রিয় মাতৃভূমি।

জানি না ধর্ষকদের কী শাস্তি হবে। আদৌ শাস্তি হবে কি না। নাকি দু’দিন পর ভিন্ন ইস্যুতে চাপা পড়ে সেখানেই কুলখানী হয়ে যাবে বিচারের। তবে নির্যাতিতদের আর্তচিৎকারে দিনদিন ভারী হয়ে ওঠছে আকাশ বাতাস। এই চিৎকার আর আর্তনাদের বোঝা কতোদিন বয়ে বেড়াতে পারবে দেশ তা সময়ই বলে দিবে। তবে এখান থেকেই যদি আমরা উতরাতে না পারি, তাহলে ধ্বংস অনিবার্য।

মন্তব্য করুন