মুফতী ফয়জুল করীম; সংসদে বড্ড প্রয়োজন এ বজ্রকণ্ঠের

প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৮

মতামত কলাম: মুফতী সৈয়দ ফয়জুল কারীম। চরমোনাইয়ের মরহুম সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল কারীম রহ. এর যোগ্য সন্তান। পড়াশোনার পরিধি বিস্তৃত। পথভুলা মানুষদের আলোর পথে পথপ্রদর্শন করতে প্রতিদিন যিনি চষে বেড়ান ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের কোষে কোষে। দরদ নিয়ে কথা বলেন। আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে হৃদয়ের মাধুরি মিশিয়ে জান্নাতের সুবিমল সৌন্দর্য এবং নেয়ামতের কথা মানুষের কাছে তুলে ধরেন। পাপের অঁতলান্ত আধার হারিয়ে যাওয়া পথভুলা বান্দার চোখের সামনে ভেসে উঠে রহমাতুল আলামিনের দয়ার সাগর। সে সাগরে ডুব দেয়। রহমতসিক্ত হয়ে ফিরে আসে জান্নাতের পথে। হৃদয়ের অশ্রæকে কথার সাথে মিশিয়ে দরদ এবং ব্যথা নিয়ে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তির কথা বলেন! বেঁহুশ বান্দার হুঁশ ফিরে আসে। এভাবে অসংখ্য পথভুলা মানুষ আলোর সন্ধান পচ্ছে তার বয়ান থেকে।

এছাড়া ফয়জুল কারীম হাফিজাহুল্লাহর আরেকটি বড় পরিচয় আছে। তিনি শুধু দরবার এবং মুরীদ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন না। তিনি একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। দেশ, জাতি এবং ইসলামের জন্য বারবার গর্জে উঠে তার বজ্রকণ্ঠ। বাবার কাছ থেকেই আধ্যাত্মিকতা এবং রাজনীতির শিক্ষা নিয়েছেন। সময়ের আবর্তনে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে সমৃদ্ধ করেছেন।

বর্তমানের ইসলামী রাজনীতিবিদ এবং মুফতী ফয়জুল কারীম হাফিজাহুল্লাহর মাঝে বড় ধরণের একটি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। যারা রাজনীতি করেন, তাদের বেশিরভাগের রানৈতিক কার্যক্রম রাজধানী কেন্দ্রিক। যে আসনে তারা প্রার্থী হবেন, সে আসনের জনসাধারণের সাথে তাদের তেমন সমর্থন থাকে না। বছরে এক দুবারও অনেকে এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। মুফতী ফয়জুল কারীমকে দেখেছি বরিশাল ৫ আসনের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে যেতে। বাংলাদেশের শেষপ্রান্তে কোনো মাহফিলে আছেন, নিজের নির্বাচনি এলাকায় কোনো সমস্যার কথা, কোনো কর্মী আহত বা বিপদে পড়ার সংবাদ পেলে সাথে সাথে ছুটে এসেছেন। সকল দলের লোকদের নিজের উত্তম নববি আদর্শ দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে গলধঃঘর্ম খেটেছেন। গত এক বছর থেকে নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি গ্রামের গলিতে গলিতে তিনি চষে বেড়িয়েছেন। এজন্য নিজের দলের নেতাকর্মী ছাড়াও জনসাধারণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন।

বাস্তব কথা হলো, আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বসবাস করি। গণতন্ত্রেই ডুবে আছি। গণতন্ত্রের দোহাই দিয়েই তাগুতরা কুরআন বিরোধি আইন প্রণয়ন করে সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম রাষ্ট্রে। সংবিধানকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে, সংবিধান নিয়ে সামান্য নেগেটিভ কথা বললেই জেল জরিমানা আবশ্যক। এ অবস্থায় রাজপথের পাশাপাশি সংসদেও আমাদের দাবি দাওয়া পেশ করা দরকার। ৯০ দশকে সংসদে ঝড় তুলতেন মাওলানা আতাউর রহমান খান রহ.। প্রাজ্ঞ আলেম ছিলেন তিনি। কিন্তু সে সময় রেডিও বা টেলিভিশনে সংসদ অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচারিত হতো না। ফলে তার দরাজ কণ্ঠের আকর্ষণীয় বক্তৃতা জনসমক্ষে আসেনি। মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ. এরও ভরাট কণ্ঠ আমরা জাতীয় সংসদে শুনেছি।


সংসদ এবং রাজপথের মাঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সংসদে যে কোনো বিলের উপর স্বল্প সময়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের আলোকে বক্তৃতাপ্রদানের যোগ্যতা থাকা দরকার। ৯২ পার্সেন্ট মুসলমানের হৃদয়ের কথাগুলো বুকে সাহস রেখে তেজদীপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করতে হবে সংসদে। কারণ একজন ইসলামি রাজনীতিবিদের বিশাল কর্মী বাহিনী রয়েছে। এছাড়া দেশের ইসলামপ্রিয় সকল মানুষের ভালোবাসাতো আছেই। ইনু, মেননরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এতো কিছু করতে পারে! কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির বয়স কম নয়। কিন্তু এখনো খুব কম নেতা গণ মানুষের সাথে মিশতে পেরেছেন। তাদের চাওয়া পাওয়া উপলব্ধি করতে পেরেছেন! এজন্য মানুষ আলেমদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান করলেও ভোটপ্রদান করে না।


বাংলাদেশের বয়স ৪৯ বছর। কিন্তু এতোটা বছর পরও এদেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। পাকিস্তানীদের অত্যাচার এবং শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একাত্তরে বাংলাদেশিরা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। আজ এতো বছর পর আপনি চোখ বন্ধ করে কল্পনার চোখে বাংলাদেশের আকাশের দিকে তাকান, দেখবেন স্বজন হারানো মা বোনের আর্তনাদে এ দেশের আকাশ, বাতাস ভারী হয়ে আছে। কল্পনার চোখ দিয়ে এ দেশের জমীনের দিকে তাকালে শুধু ছোপ ছোট রক্ত দেখতে পারবেন। নষ্ট গণতন্ত্রেও চাকায় পিষ্ট হয়ে কত জীবনপ্রদীপ নিভেছে বাংলাদেশে!

মুফতী ফয়জুল কারীম সাহেব নষ্ট রাজনীতি করেন না। ইসলাম, দেশ ও মানবতার জন্য অহর্নিশ কাজ করেই চলেছেন। দেশের জন্য মুফতী ফয়জুল কারীমদের নির্বাচিত করা প্রয়োজন। কারণ তার অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে। শেষ রাতে তিনি লোক চক্ষুর অন্তরালে একা একা জায়নামাজে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ পড়েন। সংসদে গেলেও ফয়জুল কারীম তেল মারবে না। চোখে আঙুল দিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলবে। ফয়জুল কারীম সাহেব রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করবে না।

বরিশাল ৫ এর ভোটাররা; আপনারা কি পরিবর্তনের আওয়াজ পাচ্ছেন! সফলতা আপনাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। স্বাধীনতার পর থেকেই অনেককে ভোট দিয়েছেন। এবার পরীক্ষামূলক মুুফতী ফয়জুল কারীম হাফিজাহুল্লাহকে ভোট দিন। দেখুন একজন আলেম মানবতা এবং দেশের জন্য কতটা নিরাপদ।

মন্তব্য করুন