কওমী স্বীকৃতি দিয়ে জীবিকার সুযোগ দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

কওমি মাদ্রাসা এতদিন সুযোগ সুবিধা থেকে দূরে ছিল। এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা এখন স্বীকৃতি দিয়েছি। তাদের জীবন-জীবিকার যাতে একটা ব্যবস্থা হয় সেই সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে গণভবনে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পিইসি, জেএসসি ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ এবং ফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে আমরা এখন অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। ঠিক সময়ে এখন রেজাল্ট হচ্ছে। আমরা বিনা পয়সায় বই বিতরণ করছি, বৃত্তি দিচ্ছি। শিক্ষকদের আমরা ট্রেনিং দিচ্ছি।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, অনেকে এসব জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলে। তবে এসব পরীক্ষা হওয়ার ফলে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ভীতি কেটে যাচ্ছে। তারা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এবারের পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এবারের শিক্ষার ফলাফল যথেষ্ট ভালো হয়েছে। ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করলে ফলাফল আরও ভালো হবে। যারা পাস করতে পারেনি তাদের বলবো মন খারাপ না করে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে। যাতে তারা পরবর্তীতে বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।

তিনি বলেন, আমি দেখলাম শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান পড়তে চাই না। আমি ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আসি। এরপর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা কম্পিউটার নিয়ে আসলাম। এখন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে বসেই ভিস্যুয়াল সব কিছু দেখতে পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করলো তখন দেখলাম সাক্ষরতার হার মাত্র মাত্র ৪৫ ভাগ। তখন আমরা একটা কর্মসূচি নিলাম। দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে একটি প্রজেক্ট নিলাম। সেইসঙ্গে ছাত্র সংগঠনকে নির্দেশ দিলাম একজন ছাত্র পাঁচজনকে অক্ষর জ্ঞান দেবে। তাহলে দলে ভালো পদ পাবে। বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে আমরা এই ব্যবস্থা নিলাম। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা সাক্ষরতার হার ৬৮ ভাগে নিয়ে আসলাম।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সহস্রাব্দ উন্নযন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ অভাবনীয সাফল্য পেযছে। আমরা ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে তার জন্য আমি এখন থেকেই কাজ শুরু করেছি।

মন্তব্য করুন