জামায়াতের প্রার্থিতা বাতিল হচ্ছে না

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের যে ২৫ জন ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা বাতিলের আইনগত কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

রবিবার সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াতের ২৫ নেতা এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ২২জন বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক এবং ৩জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াতের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সোমবার হাইকোর্টে রিট হয়। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রিট আবেদনের শুনানি শেষে তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন।

রিট আবেদনটি করেন তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, মো. আলী হোসেন, মো. এমদাদুল হক ও হুমায়ুন কবির। রিটে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ২২ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনজন জামায়াত প্রার্থীর ভোটে অংশ নেওয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) উচ্চ আদালতের নির্দেশের কপি হাতে পায় কমিশন। পরে ওইদিনই কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের চিঠিটা আজ পেয়েছি। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আইন শাখায় বলেছি। যেন কমিশনে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রুলের নিষ্পত্তি করতে। আমরা যেহেতু আজকে পেয়েছি, আমাদের হাতে আরও দুই কার্যদিবস আছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে দেবো।’ ইসি সচিবের তথ্য মতে সোমবারের মধ্যে আদালতকে কমিশনের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

জামায়তের প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে শুক্রবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে জামায়াতের যে সব সদস্য প্রার্থী আছেন, তালিকা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের নাম পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট তাদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থীরা তাদের হলফনামা যখন দাখিল করেছেন, তখন হয়তো তাদের বলতে হয়েছে তারা কোন দলের সদস্য। যারা ধানের শীষ ব্যবহার করছেন, তারা বলেছেন বিএনপির, কিন্তু আসলে তো তারা বিএনপির নন। তাদের ওয়েবসাইটে, পত্র-পত্রিকায় পরিষ্কারভাবে প্রত্যেকের অবস্থান উঠে এসেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের অনুরোধ করেছি।’

এদিকে শনিবার ‘জামায়াতের কোনও প্রার্থী নাই, সবই ধানের শীষের প্রার্থী’ জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নির্বাচনে জামায়াতের কোনও প্রার্থী নেই। তারা শুধু ধানের শীষের প্রতীক নয়, তারা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করছেন তারা। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ তাদের দেওয়া হয়েছে। জামায়াত তাদের মনোনীত করেনি। বিএনপি মনোনীত করেছে। তাই সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কোনও প্রার্থী নেই।’

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানের সংগঠন প্রজন্ম ৭১, গৌরব ৭১সহ একাধিক সংগঠন জামায়াতের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানিয়েছে।

জামাতের প্রার্থী যারা

এবারের নির্বাচনে জামায়াতের ২৫ জন নেতা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জন ধানের শীষে ও বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তারা হলেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনে মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আসনে মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, রংপুর-৫ আসনে অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান সরকার, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ আসনে মাওলানা ইকবাল হুসাইন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ আসনে অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনে অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ আসনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আসনে মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনে মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে আলহাজ শামীম সাঈদী, ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিলেট-৫ আসনে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ আসনে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম ১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম ও কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ।

মন্তব্য করুন