চূড়ান্ত হয়নি নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক তালিকা

ভোটের মাঠে প্রায় ৩৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক কাজ করবেন

প্রকাশিত: ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮

নির্বাচনের ভোটের মাঠে প্রায় ৩৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক কাজ করবেন। যদিও এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

এর বাইরে থাকবেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও। তবে তাদের তালিকা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০ ডিসেম্বরের পর ওই তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ১১৮টি পর্যবেক্ষক সংস্থার মধ্যে ৮১টি সংস্থার ৩৪ হাজার ৬৭১ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) অধীনে রয়েছে ২২টি নিবন্ধিত সংস্থার ১৬ হাজার ৩৯৪ জন।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার দেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এ পর্যন্ত এশিয়ান ফাউন্ডেশন, জাপান দূতাবাস, স্পেন, জার্মান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে দূতাবাস, ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেম (আইএফইএস), ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, দিপেন্দ্র ক্যান্ডেল ইনিশিয়েটিভ (ডিকেআই) থেকে দেড় শতাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের আবেদন পাওয়া গেছে।

ইসিতে আবেদনকারী দেশীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ) তিন হাজার ৮৪২ জন, ডেমোক্রেসিওয়াচ দুই হাজার ৪৩০, সেইফ ২১৫, লাইটহাউস ৮৭৬, সেবা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন ৩১, কর্মায়ন ৬২, জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস ওয়েলফেয়ার (জার) ৫, আবদুল মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ৭৮৯, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ ৪১২, হোপ ২৪, অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ ৮, দেশ বাংলা ৫০০, এসো জাতি গড়ি ২০৭, অ্যাসোসিয়েশন ফর রাইটস অ্যান্ড পিস ৩২, অগ্রদূত সংস্থা ৪০৪, উদয় ১৭, নীড় ফাউন্ডেশন ১৪২, মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ১৯৬, ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান অ্যাফেয়ার্স (দিশা) ৮৩, ইন্টিগ্রেটেড সোসাইটি ফর উইম্যান অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ১৭, সোহা ১৩, এসডাপ ৭, র্যাক বাংলাদেশ ১৫, অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (উষা) ২১, স্বেচ্ছাসেবী বহুমুখী মহিলা সমাজকল্যাণ সমিতি ৩০০, দরিদ্র সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ৫, ডরপ ২৯, আলোর পথে ২৬০, ডেভেলপমেন্ট পার্টনার ২৭৫, স্টেপ ২০, মুক্ত আকাশ ৪৫, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ৪৭৯, কোস্ট ট্রাস্ট এক হাজার ৮৪, অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ৫৮৩, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা ১৪, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ১৪২, জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন ২৫০, স্বেচ্ছাসেবী পল্লী উন্নয়ন সংস্থা (পিপসা) ৭৭, সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন পরিষদ ৩৬, ডেপ ৫৯, ক্রিয়েটিভ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিএসডিসি) ১৬৭, ভোলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ১২, আশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র ৪৪৭, ডাক দিয়ে যাই ৩০০, সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (সাকো) ১৪, বাঁচতে শেখা ৩২১, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) ৭৫০, পিস অ্যান্ড রাইটস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ১০, উত্তরণ ৩০০, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ৭০০, নিড ফাউন্ডেশন ১৭০, পলাশীপাড়া সমাজকল্যাণ সমিতি ২০০, নোয়াখালী রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ৬৬০, টাইডা ৪৫, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) ২০০, মিতু সেতু এডুকেশন অ্যান্ড চ্যারিটেবল সোসাইটি ২০, আরবান ৩৪, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র ৫৫০, প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থা (প্রকস) ১২, সহায় ১৩, নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ৪৩৫, রূপান্তর ২০০, নবলোক ২০০, সলিডারিটি ১৫০, পল্লী একতা উন্নয়ন সংস্থা ৪১০, ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ২৫৩, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন ৬২১, সোসাইটি ফর রুরাল বেসিক নিড (শ্রাবণ) ৪৩৭, ফোরাম ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ৬৩, দি গুড আর্থ ৩০, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) ৬২৬, লুৎফর রহমান ভূঁইয়া ফাউন্ডেশন (এলআরবি) ৬৬৫, ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি) ৯৭৩, বাংলাদেশ আলোকিত প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন সোসাইটি ২ হাজার ৮৯৭, অনিক মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ২ হাজার ৮৭১, মুভ ফাউন্ডেশন ১২১, আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন ৯৬৫, আদর্শ পল্লী উন্নয়ন সংস্থা ৩ হাজার ৫৯৮ এবং হাইলাইট ফাউন্ডেশন ৮৬ জন।

ইসি সূত্র আরও জানায়, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় এবার যুক্তরাষ্ট্র ১৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষকের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অর্থায়ন করবে। তারা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) হয়ে কাজ করবে। যদিও ইডব্লিউজি ইসিকে জানিয়েছে, ২২টি সংস্থার ১৬ হাজার ৩৯৪ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন।

২০০৮ সালে আরপিওতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে পর্যবেক্ষক নীতিমালাও তৈরি করা হয়। ওই সময় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এদিকে এবারের নির্বাচন সামনে রেখে ইসি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে সতর্কভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়ে রেখেছে।

২০ নভেম্বর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, অনেক সাংবাদিক পর্যবেক্ষকদের সামনে ক্যামেরা ধরবেন, কিন্তু তারা কথা বলতে পারবেন না। কোনো সংবাদপত্রে লাইভে কথা বলতে পারবেন না, কমেন্টস করতে পারবেন না। ব্রিটেনের পুলিশের মতো মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে শুধু পর্যবেক্ষণ করবেন। লিখিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

সুত্র: সমকাল

মন্তব্য করুন