মুফতী মনোয়ারকে পূণর্বহালের দাবীতে সোস্যাল মিডিয়া উত্তপ্ত

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮

 

পাবলিক ভয়েস : সা’দপন্থী চক্রান্তে বারিধারা মসজিদ থেকে মুফতী মনোয়ারকে অপসারিত করার প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে। স্যোসাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ চলছেই। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুফতী মনোয়ারকে পূরণর্বহালের দাবীতে ইভেন্ট, গ্রুপ ও হ্যাশট্যাগ করে জনমত তৈরী শুরু করেছে।

এর আগে গতকাল মুফতী মনোয়ারকে মসজিদের খতীব থেকে অপসারিত করে মসজিদ কমিটি। এটি সা’দপন্থী ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেন খতীব মনোয়ার হোসেন।

ইজতেমা মাঠ প্রস্তুত করবার কাজে নিযুক্ত ওলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর সা’দপন্থীদের অতর্কিত ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে গঠনমূলক আলোচনা করে মুফতী মনোয়ারের একটি ভিডিও ফেইসবুকে আপলোড করেন। সে ভিডিওর জের ধরে তার উপর ক্ষিপ্ত হয় স্থানীয় সা’দ সাহেবের কিছু অনুসারীরা।

এর আগে সা’দপন্থীদের বাড়াবাড়ি নিয়ে বক্তৃতায় তাদের শান্ত হওয়ার কথা বলায় বিশিষ্ট ওয়ায়েজ মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ তাদের রোষানোলে পড়েছিলেন। চাঁদপুরে বিভিন্ন জায়গায় তাঁর মাহফিল বন্ধ করার পায়তারা করেছে তারা।

মুফতি মনোয়ারের সাথে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,

প্রথমে তারা তাঁকে মুঠোফোনে আমাকে হুমকি দেয় ও গালীগালাজ করে। আমি কেন ফেসবুকে প্রতিবাদ করলাম টঙ্গী ইজতেমার মাঠের ঘটনায় এ ব্যাপারে তারা যাচ্ছে তাই বলে আমাকে।এরপর তারা আমাকে মসজিদ থেকে অপসারিত করার চক্রান্ত করে।

তিনি আরো বলেন: “কেবল চাকরির নয়, প্রশ্নটা মূলত ইনসাফ, আদর্শ ও মর্যাদার। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কোনো মুসলিম কখনো মাথা নত করতে পারে না। ফলে আমি এ অন্যায়ের প্রতিকার চাই। আমি এ ব্যাপারে দেশের আলেম সমাজ, প্রশাসন এবং তাবলীগের মূল ধারার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

ঘটনা বিশ্লেষণে জানা যায়, সা’দপন্থীরা সংগঠিত হয়ে তাঁর বক্তৃতার কিছু কিছু অংশ কেটে নিয়ে বারিধারা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির সামনে তুলে ধরে মুফতি মনোয়ারকে তাৎক্ষণিক অপসারণের জন্যে চাপ প্রয়োগ করে। তারা অভিযোগ রটায়, মুফতি মনোয়ার তাবলীগ জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং অব্যাহত বক্তৃতা-লেখনীর মাধ্যমে ওই এলাকার সকল মসজিদে তাবলীগ জামায়াতের আনাগোনা বন্ধের ষড়যন্ত্র করেছেন।

এদের চাপে নতি স্বীকার করে মসজিদ কমিটির সভাপতি মুফতি মনোয়ারকে তাঁর ওপর আনিত অভিযোগ ব্যাখ্যা করার সুযোগ না দিয়ে এবং নিয়োগ-অব্যাহতি সংক্রান্ত নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই সা’দপন্থীদের দাবি অনুসারে তৎক্ষণাৎ তাঁকে অপসারণের ঘোষণা দেন।

আচমকা এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের মধ্যে এবং ওয়াকিফহাল আলিমসমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন