আরবের অবনতি, দাজ্জালের পদধ্বনি

প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
ছবি: গোলাম রাব্বি

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে কিয়ামতের আগের ভয়াবহ ফিতনা সম্পর্কে উম্মতকে বারবার সতর্ক করে গেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ফিতনা হল দাজ্জালের ফিতনা।

এমন কোনো নবি নেই, যিনি তার উম্মতকে দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করে যাননি। আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উম্মতকে সবচেয়ে বেশি দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন। কারণ তার উম্মত যেহেতু শেষ উম্মত, এরপর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, এজন্য নিশ্চিতভাবে তার উম্মত দাজ্জালের ফিতনার মুখোমুখি হবে।

দাজ্জাল পৃথিবীতে বের হওয়ার পর পৃথিবীর অবস্থা কেমন হবে? সে কি কি ফিতনা সৃষ্টি করবে? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সম্পর্কে উম্মতকে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

দাজ্জালের ফিতনার সময় পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র দুটি জায়গ মক্কা, মদিনার অবস্থা কেমন হবে? সে সম্পর্কেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোকপাত করেছেন। দাজ্জাল সম্পর্কে সবচেয়ে দীর্ঘ হাদিস হল নাওয়াস বিন সামআন রা. বরে সূত্রে বর্ণিত হাদিস। সে হাদিসের এক পর্যায়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন.-

অর্থাৎ একপর্যায়ে অবস্থা এমন হবে যে, মক্কা মদিনা ছাড়া পৃথিবীর এমন কোনও ভ‚খÐ থাকবে না, যে ভ‚খÐ দাজ্জাল পদানত করবে না। মক্কা মদিনার প্রবেশ পথে ফেরেশতারা নাঙ্গা তরবারি নিয়ে পাহারায় থাকবেন। সে ছোট একটি লাল পাহাড়ে অবতরণ করবে। যা হবে তৃণলতা শূন্য স্থানের শেষ ভাগ। এরপর মদিনা তার অধিবাসীসহ তিনবার প্রকম্পিত হবে। ফলে মুনাফিক পুরুষ এবং মহিলা মদিনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালের সাথে মিলিত হবে।

(ইবনে মাজাহ, হাদিস নং, ৪০৭৭) এ বিষয়টি আরো অনেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মিহজান ইবনে আদরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। তিন বললেন- ‘মুক্তি দিবস, মুক্তি দিবস কী? মুক্তি দিবস, মুক্তি দিবস কী? মুক্তি দিবস, মুক্তি দিবস কী’? তখন তাকে বলা হলো, ‘মুক্তি দিবস কী’! তিনি বলেন, ‘দাজ্জাল আসবে। সে উহুদ পাহাড়ে তার সাথীদেরকে বলবে, “তোমরা কি এই সাদা প্রাসাদটি দেখতে পাচ্ছো? এটা মসজিদে আহমদ।” এরপর মদিনায় আসবে। সেখানে এসে মদিনার প্রত্যেকটি প্রবেশদ্বারে দুজন করে ফেরেশতা খোলা তরবারি নিয়ে পাহারারত অবস্থায় পাবে।

এরপর সে ‘সাইহানাল জুরুফ’ নামক স্থানে এসে তার আস্তানা গড়ে তুলবে। এরপর তিনবার মদিনায় কম্পন সৃষ্টি হবে। ফলে কোনও মুনাফিক বা ফাসিক পুরুষ-নারী মদিনায় অবশিষ্ট থাকবে না। তারা মদিনা থেকে বের হয়ে তার কাছে চলে আসবে। আর এটাই হলো মুক্তি দিবস’। (মুসনাদে আহমদ-১৯৭৫, শায়খ শুয়াইব আরনাউত তাহকিককৃত।

আল মুসতাদরাক-৮৬৩১, শায়খ মুসতাফা আবদুল কাদির আতা তাহকিককৃত। হাদিসটি সম্পর্কে হাকেম নিশাপুরি রাহ. বলেন, অর্থাৎ হাদিসটি ইমাম মুসলিমের শর্তে উত্তীর্ণ।

ইমাম জাহাবি রাহ. হাকেম নিশাপুরির বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন) . এ মর্মে বর্ণিত হাদিস থেকে একটি বিষয় বুঝে আসে। দাজ্জালের আগে মদিনায় মুনাফিক এবং ফাসেক লোক বসবাস করবে।

দাজ্জাল আসার পর তারা বের হয়ে দাজ্জালের দলে যোগ দিবে। এর আগে ধীরে ধীর মুনাফিক এবং ফাসেক লোক মদিনায় বসবাস শুরু করবে। বর্তমানে সৌদির অবস্থা খুব দ্রæত অধঃপতন হচ্ছে।

পাপের কাজে খুব দ্রæত নিজেদের ডুবিয়ে দিচ্ছে আরবরা। সিনেমা সহ অশ্লীলতা ধীরে ধীরে গ্রাস করতে শুরু করছে আরবদের। প্রকাশ্য পাপের প্রদর্শনী আরবে ঘোষণা দিয়ে শুরু হচ্ছে! আর আরব বাদশাহদের মুনাফিকি চরিত্রের কথা নতুন করে বলার কিছুই নেই। মুসলিম বিশ্বের চোখে ধুলো দিয়ে জারজ ইসরাইল এবং আমেরিকার সাথে তাদের সম্পর্ক এখন আর গোপন নয়।

মার্কিন সংস্থা শুনেছি সৌদিতে সিনেমা হল নির্মাণ করবে। সব মিলিয়ে আরবের অবস্থা খুব দ্রæত অবনতি হচ্ছে। দাজ্জালের ফিতনার পদধ্বনি শুনা যায়। আল্লাহ, তুমি আমাদের রক্ষা করুন।

মন্তব্য করুন