একচোখে দুই দৃষ্টি; চট্টগ্রাম থেকে ভিকারুননিসা

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮

শিক্ষার চরম অবনতি চলছে বাংলাদেশে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় নকল ও ঘুষের মাধ্যমে ভালো রেজাল্টের মহোৎসব চলছে। প্রত্যেকটাই জঘন্যতম অপরাধ। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপও নিতেও দেখা যায় না সরকারকে। পরীক্ষায় নকল করা দণ্ডনীয় ও অমার্জিত অপরাধ বলেই মনে করি। ভিকারুননিসার ছাত্রী অরিত্রীকে মোবাইলে নকল করার অপরাধে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতার বার্তাই দেয়। অরিত্রী শিক্ষকদের কাছে পরীক্ষার অনুমতি চায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ মা-বাবাকে নিয়ে যেতে বলে। অভিযোগ হলো, শিক্ষক অরিত্রীর মা-বাবাকে অপমান করেছে এবং সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে অরিত্রী আত্মহত্যা করেছে। একটি স্কুলের নিয়মানুযায়ী অরিত্রী নকল করায় বরখাস্ত হওয়া দোষের কিছু নয়।

নকল করলে কটু কথা শোনাও দোষের কিছু মনে করি না। অন্যায় করলে সবাই ই তিরষ্কারের শিকার হবে এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষক যদি অরিত্রীর মা-বাবাকে অপমান করে থাকে তাহলে শিক্ষরাও দোষী। তবে কী অপমান করেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। অরিত্রী মা-বাবার অপমান নাকি নকলের লজ্জায় আত্মহত্যা করেছে তাও স্পষ্ট নয়। কেননা অরিত্রী লিখে যায়নি সে কোন কারণে আত্মহত্যা করেছে।

তাহলে দুই কারণের যে কোনো এক কারণ হতে পারে। অসম্ভব তো নয়! কথা হলো, আত্মহত্যার জন্য শিক্ষক বা শিক্ষিকা দোষী হবে কেন? তারা অরিত্রীর মা-বাবাকে অপমানের দোষে দোষী হতে পারেন।

বিষয়টাকে এমনভাবে ঘোলাটে করে ফেলা হয়েছে, ভবিষ্যতে নকলের দ্বার উন্মোচন করে দেওয়া হলো। নকল ধরা পড়লেও নকলকারীর কোনো টেনশন থাকবে না। নকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে প্রতিষ্ঠানকে আত্মহত্যার ব্ল্যাকমেইল করার পথ খুলে দেওয়া হলো। শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও পরীক্ষা বর্জন করেছে।

তাহলে এই শিক্ষার্থীরা কী শিক্ষা পেলো? অথচ সারাদেশে নকলের বিষয়টা যে হালকা হয়ে যাচ্ছে সে হিসেব কেউ করছে না। অন্যায় করে অপমানিত হয়েছে অরিত্রী। কিন্তু চট্টগ্রামে হিজাব পড়ে স্কুলে যাওয়ায় ছাত্রীকে অপমান করেছে তা নিয়ে কোনো কথাই হলো না! শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কিংবা ক্লাস বর্জনও দেখিনি! হিজাব পড়া অপরাধ নয়, নকল করা অপরাধ।

অথচ একজন ছাত্রীকে বিনা দোষে অপমান করা হলো, কিন্তু তার কোনো বিচার হলো না! তবে যদি বলি একচোখে দুই দৃষ্টি তাহলে কি ভুল হবে? দেশের মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষিতরা যেদিন চোখ ও মানসিকতা ঠিক করতে পারবে, সেদিন সু’দিন ফিরে আসবে, তার আগে নয়।

মন্তব্য করুন