স্লোগানটা কী ছিলো!

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৫, ২০১৮
সৈয়দ রেজাউল করীম রহ. Pv image

২৫ নভেম্বর। ২০০৬ সালের এই দিনে সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. ইন্তেকাল করেছেন। আজকে ঠিক একই দিনে উনার একটা আদর্শ নিয়ে কথা বলার দরকার মনে হলো।

“নারী নেতৃত্ব মানা না মানা”

‘নারীর সাথে আপোষ নাই, পীর সাহেব চরমোনাই’ এই স্লোগানের মুল প্রবক্তা কারা আমি জানি না। কারন এটা মরহুম ফজলুল করীম রহ. এর স্লোগান হতে পারে না। উনার রাজনৈতিক জীবন অ্যানালাইসিস করে আমার অন্তত এমনটা মনে হয়েছে। স্লোগানটা এমনই তবে একটু খানি কারেকশন করে! সেটা হলো,

“নারী নেতৃত্বের সাথে আপোষ নাই, পীর সাহেব চরমোনাই”

আজীবন মরহুম পীর সাহেব নারী নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলে গেছেন, সেটার বিরোধিতা করে গেছেন। খুবই সিম্পল এবং স্ট্রং একটা অবস্থান ছিলো উনার। অবস্থানটা এক কথায় বলতে গেলে যা হয় তা হলো,

“আমার সহযোগীতার উপর ভর করে বা আমার চেষ্টার ফলাফল হিসেবে কোন নারীর ক্ষমতার আসনে বসতে পারা” নিয়েই উনার কথা ছিলো।

কেবল বাংলাদেশে ছাড়া কোন মুসলিম দেশেই মুলধারার আলেমদের সহযোগীতা নিয়ে নারী ক্ষমতার আসনে বসতে পারেনি। কেবল বাংলাদেশেই এটা হয়েছে। বারবার হয়েছে। জামায়াতে ইসলাম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের প্রচেষ্টায় আলেমদের সহযোগীতা বিএনপির ঘরে গিয়ে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় বসতে পেরেছে এক সময়। একক প্রচেষ্টায় জামায়াতের সহযোগীতায় শেখ হাসিনাও ক্ষমতায় বসেছে একবার। আবার এখন এসে আলেম সাহেবজাদা এবং সেই ঐক্যজোটের প্রচেষ্টাতেই আওয়ামীলীগের ঘরে সহযোগীতা যাচ্ছে আলেমদের। ক্ষমতায় বসবেন শেখ হাসিনা!

মোটকথা, নারীর ক্ষমতা অর্জনে আলেমদের সহযোগীতা করা বা তারা নারীর সাথে ক্ষমতা প্রশ্নে জোট করা নিয়েই মুল বিরোধিতা ছিলো মরহুম পীর সাহেবের। এবং মরহুম পীর সাহেবের মুল লড়াইটা এটার বিরুদ্ধেই ছিলো সব সময়। কিন্তু অতি আবেগী কিছু সমর্থকরা এটাকে “নারীর সাথে আপোষ নাই” শব্দের সাথে জুড়ে দিয়েছে।

 

নারীর সাথে আপোষ নাই এবং নারী নেতৃত্বের সাথে আপোষ নাই এই দুইটা স্লোগানের মধ্যে রাত দিন পার্থক্য আছে। রাজনীতিতে আপনার শ্লোগাণ হতে হবে নেতৃত্ব নিয়ে, নারী পুরুষ নিয়ে নয়। পর্দার মাসয়ালা শরিয়ত দেবে। রাজনীতি নয়। শরিয়তে প্রয়োজন অপ্রয়োজন দরকারী বে দরকারী এগুলো সব বিবেচনা করে তবেই ফয়সালা দেয়া হয়। গাড়িতে নারী আছে সেখানে আপনি বসতে পারবেন কি না, সেটা নারীর সাথে আপোষ হবে কি না সে ফয়সালা শরিয়তের মানদন্ড থেকেই করতে হবে আপনাকে। নিজের মন মত নয়।

ছবি তোলা না তোলা নিয়ে শরিয়তের ফয়সালা বিবেচনা করলেই এটার সুন্দর জবাব পেয়ে যাবেন আশা করি। সর্বপরী এটা নিয়ে আপনাকে কথা বলতে হলে স্পেসিফিক অনেক ব্যাপার নিয়ে গবেষণা করে নিতে হবে। যেমন, পর্দার হুকুম, প্রয়োজন অপ্রয়োজনের মাসয়ালা, নেতৃত্বের মাসয়ালা ইত্যাদি।

 

নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়া এবং নারীর সাথে কথা বলা, পাশে বসা, দেখা করা বা প্রয়োজনে তাঁর কাছ থেকে কোন সহযোগীতা নেয়া এই দুইটা ব্যাপার সম্পুর্নই আলাদা ছিলো। এই দুইটার হুকুম শরিয়তেও আলাদা আলাদা।

কিন্তু একদল এটাকে চিপতে চিপতে এমন তিতা বানাইছে, এখন নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। নির্বাচনী মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আপনাকে নারী কার্যালয়ে যাওয়া লাগতে পারে। কী হবে আপনার তখনকার অবস্থান।

ছবি তুলবেন না বা নিজে না গিয়ে অন্যকে পাঠাবেন এগুলো সমাধান হতে পারে না। ছবি তুললেন না তাতে ছবি তোলার খারাবি থেকে মুক্ত থাকতে পারলেন, নিজে গেলেন না তাতে নিজে বেঁচে থাকতে পারলেন কিন্তু যাকে পাঠালেন তাকে তো গুনাহে লীপ্ত করলেন আপনি। সেক্ষেত্রে ডাবল পাপ আপনার। কারন এখানে অন্যকে দিয়ে গুনাহের কাজ করালেন। এগুলোর স্থায়ী সমাধান নিয়ে তবেই কাজ করা উচিত।

 

কথা আরো আছে “নারীর সাথে আপোষ করা নিয়ে”

সর্বশেষ তালিকা মতে বাংলাদেশের মোট ১০ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৬০১ জন ভোটারের মধ্যে ৫ কোটি ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৩ জন নারী ভোটার আছে। এই পাঁচ কোটি প্লাস ভোটারদের ক্ষেত্রে কী অবস্থান হবে আপনার? তাদের সাথে আপোষ করবেন না ভোটের জন্য?

সময়ে সময়ে এমন শত শত প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন তাই আপনার মুল আদর্শ কোনটা, মুল থিম কোনটা সেটা আগে ঠিক করুন। আপনার আদর্শ কী নারী নেতৃত্বের সাথে আপোষ করার বিরোধিতা করা নাকি নারীর বিরোধিতা করা সেইটা আগে ঠিক করে নেন।

মন্তব্য করুন