যে ছবি আঁকা যায় না : মহানবী (স.)

মহানবী দেখতে কেমন ছিলেন

প্রকাশিত: ৯:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৮

কোন মানুষের পক্ষে প্রিয় রাসূল স. এর পবিত্র দেহাবয়ব বর্ণনা করে চিত্র তুলে ধরা সম্ভব নয়। নবীকে আল্লাহ এমন মোহময় করে গড়ে তুলেছিলেন যা চোখ দেখতে পারতো কিন্তু ধারণ করতে পারতো না। হাদিসে নববীতে সাহাবায়ে কেরামদের বর্ণনামতে ‘সুরাতে নবী’ বা নবীর অবয়বের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা সংক্ষেপ করলে যা হয়,

চুল

তাঁর চুল ছিল ঈষৎ কোকড়ানো ঘন কালো ৷ কখনো গুচ্ছাকারে প্রায় কাঁধে ছুয়ে থাকতো ৷ পরিণত বয়সেও মাত্র গোটা বিশেক পাকা চুল দেখা গেছে ৷

মুখ

তাঁর মুখমন্ডল ছিল ডিম্বাকার ৷ মায়া ঠিকড়ে পড়তো সেখান থেকে।

কপাল ও ভ্রু

তাঁর কপাল ছিল প্রশস্ত  ও উঁচু ৷ তার নিচে সুন্দর, সুদীর্ঘ ও বাকালো ভ্রু ছিলো৷

চোখ

তাঁর চোখ দুটো ছিল গভীর কালো ও টানা দ্বীপ্তিময় ৷ নবীর চোখে তাকিয়ে থাকা যেত না খুব সময়। সেখানের গভীরতা ডুবিয়ে দিতো তাকানেওয়ালাকে।

নাক

তাঁর নাক ছিল সামান্য উঁচু আকর্ষণীয় দ্যুতিময় ৷ নাকের ডগা সামান্য লম্বাটে ছিলো যা আকর্ষণ বাড়িয়ে দিতো চেহারার।

দাঁত

তাঁর দাঁত ছিল সুগঠিত ঝকঝকে সাদাসাদা ৷

দাড়ি

তাঁর মুখে ছিল চমৎকার পৌরুষদীপ্ত গন শ্মাশ্রু ৷ নবীর কাছে দাঁড়ি খুবই প্রিয় ছিলো।

কাঁধ, বক্ষ, মেরুদন্ড, পেশী, দেহ  উচ্চতা

তাঁর কাঁধ ছিল চওড়া ৷ তার বক্ষ ছিল প্রশস্ত ৷ তার মেরুদন্ড ছিল সবল ৷ তার পেশী ছিল সুদৃড় ৷ তিনি ছিলেন স্বাস্থবান ও শক্তিশালী ৷ তাঁর দেহ ছিল সুঠাম ও সুন্দর ৷ তাঁর উচ্চতা ছিল মাঝারী ৷

গায়ের ত্বক, রং ও ঘাম

তাঁর গায়ের ত্বক ছিল স্বচ্ছ ও নরম ৷ তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জল রক্তিমাভ গোলাপী ৷ শরীরে ঘাম দেখা দিলে তা মুক্তার মত ঝলমল করতো ৷ আর তার সুগন্ধিতে মেশকের ঘ্রাণ তুচ্ছ মনে হতো ৷

হাত, পা ও হাঁটা

তাঁর হাত দুটি ছিল রেশমের মত নরম ও মোলায়েম ৷

মসৃন ভরাট পদযুগল ৷ পদক্ষেপ ছিল দৃঢ় ৷ হাঁটার সময় মনে হতো কোন উচুঁ জায়গা হতে নিচে নামছেন ৷ মুখ ঘোরালে গোটা শরীরটাই ঘোরাতেন ৷

তাঁকে দেখে মনে হতো চিন্তাশীল, ধ্যানমগ্ন ও গম্ভীর ৷ কিন্তু সেই সাথে সচেতন ৷ তিনি হাসতেন ; কিন্তু তা কখনো মুচকি হাসির সীমা ছাড়িয়ে যেত না ৷

হযরত জাবের রাযিঃ বলেন, “ এক পূর্ণিমার রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছিলাম ৷তিনি তখন লাল ডোরাকাটা পোষাক পরেছিলেন ৷ আমি একবার চাঁদের দিকে আরেকবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাঁকাতে লাগলাম ৷ অবশেষে আমি দৃঢ় সিন্দ্ধান্তে পৌছালাম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  চাঁদের চেয়ে ও বহুগুণ বেশী সুন্দর” ৷ (শামায়েলে তিরমিযী)

আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, ‘রাসুল সা. অতি লম্বা ছিলেন না, আবার খাটোও না। তিনি ধবধবে সাদা ছিলেন না, আবার সম্পূর্ণ তামাটে বর্ণেরও না। কুঞ্চিত চুল বিশিষ্ট ছিলেন না, আবার তার চুল একেবারে সোজাও ছিল না’।

অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি ছিলেন মাংসল হাত-পা ও সুদর্শন চেহারার অধিকারী। আমি পূর্বে বা পরে কাউকে তার মতো দেখিনি। তার হাতের তালু ছিল প্রশস্ত।

আবু তুফাইল রা. বলেন, ‘রাসুল সা. ছিলেন ফর্সা লাবণ্যময় আকর্ষণীয়। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি ছিলেন ফর্সা ও লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী’। [মুসলিম, হাদিস ২৩৪০]

বারা ইবনে আযেব রা. বলেন, ‘রাসুল সা. ছিলেন মাঝারি গড়নের। তার উভয় বাহুমূলের মধ্যবর্তীস্থান অন্যদের তুলনায় কিছুটা প্রশস্ত ছিল। তার মাথার কেশরাশি উভয় কানের লতি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। পরনের লাল পোশাকে তার চেয়ে অধিক সুন্দর আমি কাউকে দেখিনি’।

অন্য বর্ণনায় আছে- রাসুল সা. ছিলেন সবচে’ সুন্দর চেহারা ও গঠনের অধিকারী; অতি লম্বাও না, খাটোও না।

অন্য হাদিসে আছে- বাবরি চুল বিশিষ্ট লাল পোশাক পরিহিত কোনো লোককে রাসুল সা. এর চেয়ে অধিক সুদর্শন দেখিনি। তার চুল কাঁধ ছুঁয়ে যেত।

বারা রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, রাসুল সা.-এর চেহারা কি তরবারির মতো ছিল? তিনি জবাব দিলেন, ‘না; বরং চাঁদের মতো’। [বুখারী, হাদিস ৩৫৪৯, ৩৫৫১, ৩৫৫২]

জাবের ইবনে সামুরা বলেন, ‘রাসুল সা.-এর মুখবিবর ছিল কিছুটা প্রশস্ত, চোখ ছিলো টানা। পায়ের গোড়ালি ছিল হালকা গোশতবিশিষ্ট’। [মুসলিম, হাদিস ২৩৩৯]

তিনি আরও বলেন, রাসুল সা.-এর মাথার অগ্রভাগের কিছু চুল ও কিছু দাড়ি ধুসর বর্ণের হয়ে গিয়েছিল। তেল ব্যবহার করলে তা প্রকাশ পেত না। চুলগুলো এলোমেলো থাকলে বোঝা যেত। তিনি ছিলেন ঘন দাঁড়িবিশিষ্ট। কেউ বলল, তার চেহারা কি তলোয়ারের মতো ছিল? তিনি বললেন, না; বরং চাঁদ-সূর্যের মতো, গোলাকৃতির। তার স্কন্ধদেশে মোহরে নবুয়ত দেখেছি কবুতরের ডিমের মতো; তার শরীরের বর্ণেরই। [মুসলিম, হাদিস ২৩৪৪]

এইচ/আর

মন্তব্য করুন