জঙ্গি সন্দেহে আটক ব্যাক্তি মানসিক ভারসম্যহীন

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৮
ছবি : পাবলিক ভয়েস

ঝিনাইদাহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রাম থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক আক্তারুজ্জমান সাগর নামের সেই ছেলেটি মানসিক ভারসম্যহীন বলে জানা গেছে। তার আচার ব্যাবহার এবং বিভিন্ন কর্মকান্ডে এলাকার লোকজন তাকে মানসিক ভারসম্যহীন বলেই জানে। কিছুদিন আগে এই যুবক ছালার চট পড়ে নতুন শশুড় বাড়িতে গিয়েছিলো। এছাড়াও তাঁর বিভিন্ন আচরণে এ কথা স্পষ্ট যে, তিনি মানসিকভাবে সুস্থ নন।

আটক আক্তারুজ্জামান সাগরের পিতা কৃষক শরাফত হোসেন মন্ডল জানান, বেশ কয়েকবছর আগে তার ছেলের মানসিক রোগ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ ও পাবনা মানসিক হাসপাতালের নামী দামী ডাক্তারের কাছে তার চিকিৎসা করানো হচ্ছিলো বলেও জানান তিনি। সাগরের চিকিৎসার বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ও শারিরীর পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখিয়ে আক্তারুজ্জামান সাগর জঙ্গি নয় বলে শরাফত দাবি করেন।

 

জঙ্গী Publicvoice

মানসিক ভারসম্যহীন আকতারুজ্জামান সাগর

মানসিক ভারসাম্যহীন এই যুবক কি করে জঙ্গি হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের উইং কমান্ডার হাসান ইমন আল রাজিব বলেন, “আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এখানে একটি বাসায় জঙ্গি কর্মকাণ্ডের একজন বিশিষ্ট লোক যাওয়া আসা করে এমন খবর পেয়ে বুধবার (২১ নভেম্বর) ভোরে অভিযান শুরু করা হয়।  সেখান থেকে আক্তারুজ্জামান সাগর নামের এক যুবক আটক করা হয়েছে। সে জেএমবি সদস্য এবং পুরানো একজন একনিষ্ট কর্মী। আমরা তাকে থানায় দিব। সে যদি মানসিক ভারসাম্যহীন হয় তাহলে অথোরিটি সেটা দেখবেন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে তারা বাড়িটি ঘিরে রেখে সেখানে অভিযান চালান। সেখান থেকে কিছু জিহাদী বই পুস্তক ও একটি ড্যামি (খেলনা) বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।   কই গ্রামের আদর্শ কৃষক দুদু মিয়া বলেন, “শরাফত হোসেন কালুহাটি গ্রামের নিরীহ কৃষক। তার ছেলে আক্তারুজ্জামান সাগর গ্রামের একটি স্কুলে পড়াশুনা করতে করতে পাগল হয়ে যায়। পরে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। এরপর সে কালুহাটি মাদ্রাসায় হাফেজিয়া পড়াশুনা করতো। বেশ কিছু দিন আগে সে আবার পাগল হয়ে গেলে তাকে পাবনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জঙ্গির সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা বলতে পারবো না।”

প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা দোকানীসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, আক্তারুজ্জামান সাগর এলাকায় পাগল বলে সবাই জানে। তবে জঙ্গি কিনা তা তারা জানেন না। কিছুদিন আগে সে ছালা (চটের বস্তা) গায়ে ও মাথায় দিয়ে সে নতুন শ্বশুর বাড়িত গিয়েছিলেন বলেও তারা জানান। এর কয়েকদিন আগে সে ঝিনাইদহ শহরে একটি মটর সাইকেলে ফেলে রেখে চলে আসেন আটক সাগর।

এদিকে জঙ্গি অভিযানের পর যুবক আক্তারুজ্জামান সাগরকে যখন র‍্যাব সদস্যরা বের করে নিয়ে আসছিল তখন তার মাথায় টুপি ও পাগড়ী পরা  ছিল। সে সময় সে মৃদুভাবে হাসছিল। তার মধ্যে কোন ভীতি বা অনুশোচনা ছিল না।

 

এইচ/আর

মন্তব্য করুন