তুরস্কে কামাল আতাতুর্ক নিয়ে মন্তব্য করায় ছাত্রী গ্রেফতার।

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৮

তুরস্কে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের স্মৃতিস্তম্ভে মাথা নত করা নিয়ে মন্তব্য করার কারনে এক মেডিকেল ছাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে!

 

গত ১০ নভেম্বর মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের ৮০ তম মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে একুশ বছর বয়সী ইমিনি শাহিন (Emine Şahin) নামে  তুরস্কের এক মেডিকেল ছাত্রী কামাল আতাতুর্কের স্মৃতিস্তম্ভে মাথা নত করা নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “ইশ্বরের আইন রয়েছে তাকে ছাড়া অন্য করো সামনে মাথা নোয়ানো যাবে না” এবং কামাল আতাতুর্ক ইশ্বর নন! তাই কামাল আতাতুর্কের স্মৃতিস্তম্ভের সামনে মাথা নত করা কোনভাবেই সঠিক নয়।

 

হুররিয়াত টিভির নিউজ বরাত থেকে জানা যায়, জনসন্মুখে এই মন্তব্য করায় তুরস্ক পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

 

তুরস্কের আইন অনুযায়ী উসমানী খিলাফত বিলুপ্তকারী মোস্তফা কামালকে আধুনিক তুরস্কের জনক বলা হয় এবং তুরস্কে আতাতুর্কের ব্যাপারে যে কোন মন্তব্য করা বেশ স্পর্শকাঁতর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও সমগ্র পশ্চিমা বিশ্ব কামাল আতাতুর্কের পরিবর্তিত তুরস্কের একনিষ্ঠ সমর্থন করে থাকে। তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান কামাল আতাতুর্কের সেক্যুলারিজম মেনেই তুরস্ক শাসন করছেন যদিও পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ এরদোয়ান তুরস্ককে ইসলামীকরণের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

 

আতাতুর্কের মৃত্যুবার্ষিকীতে দলে দলে লোকজন তার মনুমেন্টে শ্রদ্ধাজ্ঞাপণ করে থাকেন এবং অনেকে সেখানে শ্রদ্ধাবণত হন। স্মৃতিস্তম্ভের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমিনি শাহিন সে দৃশ্য দেখেই উক্ত মন্তব্য করেছিলে। যেখানে আতাতুর্কের এমন স্পর্শকাঁতর অবস্থান সেখানে আতাতুর্ক নিয়ে কারো কোন মন্তব্য খুব ভালো ভাবে নেয়া হয় না। ইমিনি শাহিন প্রথমবারের মত সে সাহস করেছেন বলেই বিশ্ব গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে।

 

এখন দেখার পালা ইমিনি শাহিন এর ভবিষ্যত কী হয়। ইসলামীকরণের তুরস্কের প্রতীক হন নাকি সেক্যুলার তুরস্কের আইনের যাতাকলে পিষ্ট হন।

মন্তব্য করুন