দারুল উলুম দেওবন্দ : প্রতিষ্ঠা, প্রেক্ষাপট ও কার্যক্রম

কওমি মাদরাসার প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র

প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৮

পরিচিতিঃ
দারুল উলুম দেওবন্দ। বর্তমান বিশ্বের একমাত্র নিখুঁত ইসলামি মারকাজ৷ ইলমে ওহী বা ইলমে মানকুলের মাকবুল এবং অনন্য দরসগাহ। আউলিয়ায়ে কেরাম এবং মাশায়িখে হিন্দের একমাত্র রুহানি দীক্ষাগার। মজলিসে শুরা কতৃক পরুচালিত একটি অনন্য বিদ্যালয়৷ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্র সৈনিকদের একমাত্র অবস্থান কেন্দ্রই হলো ‘দারুল উলূম দেওবন্দ’।  বর্তমানে যা ‘আযহারে হিন্দ’ নামেও খ্যাত৷ উলামায়ে ইসলামের ‘ইখলাস কা তাজমাহাল’ এই দারুল উলুম দেওবন্দ।

এখানেই শেষ নয়৷ দেওবন্দ এমন একটি বৃক্ষ, যেটাকে আল্লাহ প্রেমিকরা তারই ইশারা ও ইলহামের মাধ্যমেই তার উপর পূর্ণ ভরসা রেখেই একনিষ্ঠতা ও লিল্লাহিয়্যাতকে ধারণ করে রোপণ করেছেন। যার শাখা প্রশাখা আজ ভারতবর্ষ পাড়ি দিয়ে বিশ্বের রন্দ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে পড়ছে৷ পুরো জাতীকে বিলিয়ে দিচ্ছে তার সুবাস। আলোকিত করছে তার আলোয়।

দারুল উলুম দেওবন্দ এমন একটি চিন্তাচেতনার জ্ঞান সমুদ্র, যা নবুওয়াতের বক্ষ থেকে প্রবাহ হয়ে সাহাবাদের বক্ষ বেয়ে হিন্দুস্তান এসে আল্লামা শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি রহ.-এর বক্ষ ঘেসে মাওলানা কাসিম নানুতুবি রহ., মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি রহ., মাওলানা ইয়াকুব নানুতবি রাহ. প্রমুখের মাধ্যমে দেওবন্দের পুষ্পবাগানে এসে স্তম্ভিত হয়। এর নদীমালা আজ ভারতবর্ষ অতিক্রম করে বিশ্বের মানচিত্রে বিস্তৃত হয়ে আছে স্বগর্বে। এর ডাল পালা সারা বিশ্বে মাথা উঁচিয়ে জানান দিচ্ছে তার গৌরবময় উপস্থিতি৷ সমগ্র বিশ্বের ইলম পিপাসুরা এর ইলমের পেয়ালা থেকে নিবারণ করছে তাদের ইলমের পিপাসা।

প্রেক্ষাপটঃ
মুঘল শাসনামলের শেষ দিকে যখন ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ পুরো ভারত বর্ষের ক্ষমতা নিজ হাতে নিয়ে এ ফরমান জারি করে যে, ‘এখন থেকে বাদশাহ সালামতের রাজ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিরই হুকুমত চলবে।’ সেই দিন মুসনাদুল হিন্দ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি রহ. এর সুযোগ্য সন্তান হযরত শাহ আবদুল আযিয মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ. দীপ্ত কণ্ঠে এই ঘোষণা করেন যে- ‘ভারতবর্ষ এখন দারুল হরব তথা শত্রুকবলিত দেশ৷ তাই প্রত্যেক ভারতবাসির উপর ফরজ হলো, একে স্বাধীন করা।

তার এই সাহসী উচ্চারণ পুরো দিক-দিগন্তে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের ন্যায়। ফলে দিশেহারা মুসলিম জাতি উলামায়ে কেরামেরর নেতৃত্বে ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লব শুরু করেন। যার ফলশ্রুতিতে শুরু হয়, আলেম-উলামার উপর দমন-নিপীড়ন। হাজার হাজার আলেম-উলামাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। দিল্লির প্রতিটা অলিগলি আলেম ওলামার রক্তে রঞ্জিত হয়। এহেন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল যে, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ইসলামের নামটুকু হয়তো আর বাকি থাকবে না। বর্তমানের চেয়ে ভবিষ্যত আরো খতরনাকই হবে।

জাতীর এ ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরলেন যুগের সীপাহসালার মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ.৷ তার চিন্তায় এলো একদল দীক্ষাপ্রাপ্ত সচেতন মুজাহিদ তৈরি করে তাদের মাধ্যমে আযাদি আন্দোলনের স্রোতধারাকে ভারতবর্ষের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেয়াই উপযুক্ত হবে। তাই দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা, শলা-পরামর্শের পর সাময়িকভাবে সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ রেখে সাম্রাজ্যবাদ ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় উজ্জীবিত, দীনি চেতনায় উৎসর্গ একদল জানবায মুজাহিদ তৈরির লক্ষ্যে এবং ইলমে নববির সংরক্ষণ ও ইসলামি শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারের মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই দেওবন্দ নামর এলাকার ঐতিহাসিক সাত্তা মসজিদ প্রাঙ্গনে একটি ডালিম গাছের ছায়ায়, ইলহামিভাবে কোনো প্রকার সরকারি সাহায্য ছাড়াই একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করে প্রতিষ্ঠা করা হয় আজকের দারুল উলুম দেওবন্দ। (মুখতাসার তারিখে দারুল উলুম দেওবন্দ, পৃষ্ঠা. ৫৯)

প্রতিষ্ঠাঃ
১৮৬৬ ঈসায়ী সাল মোতাবেক ১২৮৩ হিজরি সনে হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. ভারতের উত্তর প্রদেশস্থ সাহারানপুর জেলায় দেওবন্দ নামক গ্রামের মহল্লায়ে দেওয়ানে স্বীয় শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বাড়ি সংলগ্ন সাত্তা মসজিদের ইমাম ছিলেন হযরত মাওলানা হাজী আবিদ হোসাইন সাহেব রহ.৷ পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাম্রাজ্যবাদ ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় উজ্জীবিত, দীনি চেতনায় উৎসর্গ একদল জানবায মুজাহিদ তৈরির লক্ষ্যে এবং ইলমে নববির সংরক্ষণ ও ইসলামি শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারের মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে তার সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ.৷ আলোচনা হওয়ার পর সেখানেই একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন তারা। সিদ্ধান্ত মোতাবেক মিরাট থেকে মোল্লা মাহমুদ সাহেবকে ডেকে এনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করেন। অবশেষে ১৮৬৬ ঈসায়ী সালের ৩০ মে
মোতাবেক ১২৮৩ হিজরির ১৫ই মুহাররম রোজ বুধবার সাত্তা মসজিদের বারান্দায় ডালিম গাছের নিচে দারুল উলুম দেওবন্দের ঐতিহাসিক দ্বীনি দরসগাহ উদ্বোধন হয়।

যাদের ঘাম ঝরা পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে দেওবন্দ:
দারুল উলুম দেওবন্দের সূচনা কাল থেকেই মাদরাসার পেছনে রয়েছে কিছু মানুষের আত্মত্যাগ। যথাক্রমে- তারা হলেন হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবি রহ. (ইন্তেকাল-১২৯৭ হি.), হযরত মাওলানা ইয়াকুব নানুতবি রহ. (১৩০২ হি.), হযরত মাওলানা হাজি আবেদ হোসাইন রহ. (১৩৩১ হি.), হযরত মাওলানা শাহ রফি উদ্দিন রহ. (১৩০৮ হি.), হযরত মাওলানা যুলফিকার দেওবন্দি রহ. (১৩২২ হি.), হযরত মাওলানা ফযলুর রহমান উসমানি রহ. (১৩২৫ হি.)।

মূলনীতিঃ
মহান শিক্ষাসাধক ও সংস্কারক হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. পরাধীন ভারতে ধ্বসে পড়া ইসলামি শিক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করার মহান লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে গণ-চাঁদার উপর ভিত্তি করে শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন ধারার প্রবর্তন করেছিলেন। সময় ও অবস্থার প্রেক্ষাপটে সে ধারাকে সুশৃঙ্খলভাবে টিকিয়ে রাখা এবং তার অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এ সকল দীনী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ করে দারুল উলুম দেওবন্দের জন্য তিনি তার বিদগ্ধ চিন্তার আলোকে কতিপয় মূলনীতি প্রবর্তন করেছিলেন। ইতিহাসে এই মূলনীতিগুলোই ‘উসূলে হাশতগানা’ নামে পরিচিত। রচয়িতা তার দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার আলোকে এবং সময়ের রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় অনুদানের প্রাচীন ধারার পরিবর্তে গণচাঁদার বিষয়টির প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। সেই নীতিমালায় তিনি এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, দেওবন্দী ধারার যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য মৌলিকভাবে এ সকল নীতিমালাকে অত্যাবশ্যকীয় মনে করতে হবে।

১. যথাসম্ভব মাদরাসার কর্মচারী ও কর্মকর্তাদেরকে অধিকহারে চাঁদা আদায়ের বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজেও এর জন্য চেষ্টা করতে হবে, অন্যের মাধ্যমেও চেষ্টা করাতে হবে। মাদরাসার হিতাকাঙ্খীদেরও এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে

২. যেভাবেই হোক মাদরাসার ছাত্রদের খানা চালু রাখতে হবে বরং ক্রমান্বয়ে তা উন্নত করার ব্যাপারে হিতাকাঙ্খী ও কল্যাণকামীদের সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।

৩. মাদরাসার উপদেষ্টাগণকে মাদরাসার উন্নতি, অগ্রগতি এবং সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার দিকে সর্বদা লক্ষ্য রাখতে হবে। নিজের মত প্রতিষ্ঠার একগুঁয়েমী যাতে কারো মাঝে না হয় এ দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। আল্লাহ না করুন যদি এমন অবস্থা দেখা দেয় যে, উপদেষ্টাগণ নিজ নিজ মতের বিরোধিতা কিংবা অন্যের মতামতের সমর্থন করার বিষয়টি সহনশীলভাবে গ্রহণ করতে না পারেন তাহলে এ প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিমূল নড়বড়ে হয়ে পড়বে। আর যথাসম্ভব মুক্ত মনে পরামর্শ দিতে হবে এবং মাদরাসার শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি লক্ষ্যণীয় হতে হবে।  নিজের মত প্রতিষ্ঠার মনোবৃত্তি না থাকতে হবে। এ জন্য পরামর্শদাতাকে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে তার মতামত গ্রহণীয় হওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই আশাবাদী না হতে হবে। পক্ষান্তরে শ্রোতাদেরকে মুক্তমন ও সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তা  শুনতে হবে। অর্থাৎ এরূপ মনোবৃত্তি রাখতে হবে যে, যদি অন্যের মত যুক্তিযুক্ত ও বোধগম্য হয়, তাহলে নিজের মতের বিপরীত হলেও তা গ্রহণ করে নেওয়া হবে। আর মুহতামিম বা পরিচালকের জন্য পরামর্শ সাপেক্ষে সম্পাদন যোগ্য বিষয়ে উপদেষ্টাগণের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া অবশ্যই জরুরী। তবে মুহতামিম নিয়মিত উপদেষ্টাদের থেকেও পরামর্শ করতে পারবেন কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত এমন কোন বিদগ্ধ জ্ঞানী আলেম থেকেও পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন যিনি সকল দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের জন্য হিতাকাঙ্খী ও কল্যাণকামী। তবে যদি ঘটনাক্রমে উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যের সাথে পরামর্শ করার সুযোগ না হয় এবং প্রয়োজনমাফিক উপদেষ্টা পরিষদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের সাথে পরামর্শক্রমে কাজ করে ফেলা হয়, তাহলে কেবল এ জন্য অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত হবে না যে, ‘আমার সাথে পরামর্শ করা হল না কেন?’ কিন্তু যদি মুহতামিম কারো সঙ্গেই পরামর্শ না করেন, তাহলে অবশ্যই উপদেষ্টা পরিষদ আপত্তি করতে পারবে।

৪. মাদরাসার সকল শিক্ষককে অবশ্যই সমমনা ও একই চিন্তা চেতনার অনুসারী হতে হবে। সমকালীন (দুনিয়াদার) আলেমদের ন্যায় নিজ স্বার্থ প্রতিষ্ঠা ও অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করার দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত না হতে হবে। আল্লাহ না করুন যদি কখনো এরূপ অবস্থা দেখা দেয়, তাহলে মাদরাসার জন্য এটি মোটেও কল্যাণকর হবে না।

৫. পূর্ব থেকে যে পাঠ্যসূচী নির্ধারিত রয়েছে কিংবা পরবর্তীতে পরামর্শের ভিত্তিতে যে পাঠ্যসূচী নির্ধারণ করা হবে, তা যাতে সমাপ্ত হয়; এই ভিত্তিতেই পাঠদান করতে হবে। অন্যথায় এ প্রতিষ্ঠান সুপ্রতিষ্ঠিতই হবে না, আর যদি হয়ও তবু তা ফায়দাজনক হবে না।

৬. এ প্রতিষ্ঠানের জন্য যতদিন পর্যন্ত কোন স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হবে; ততদিন পর্যন্ত আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতার শর্তে তা এমনিভাবেই চলতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যদি স্থায়ী আয়ের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যেমন কোন জায়গীর লাভ, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, মিল ফ্যাক্টরী গড়ে তোলা কিংবা বিশ্বস্ত কোন আমীর উমারার অনুদানের অঙ্গীকার ইত্যাদি, তাহলে এরূপ মনে হচ্ছে যে, আল্লাহর প্রতি ভয় ও আশার দোদুল্যমান অবস্থা; যা মূলতঃ আল্লাহমুখী হওয়ার মূল পুঁজি, তা হাত ছাড়া হয়ে যাবে এবং গায়েবী সাহায্যের দ্বার রুদ্ধ হয়ে যাবে। তদুপরি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও কর্মচারীগণের মাঝে পারস্পরিক বিদ্বেষ ও কলহ বিবাদ দেখা দিবে। বস্তুতঃ আয় আমদানি ও গৃহাদি নির্মাণের বিষয়ে অনেকটাই অনাড়ম্বরতা ও উপায় উপকরণহীন অবস্থা বহাল রাখার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

৭. সরকার ও আমীর উমারাদের সংশ্লিষ্টতাও এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে বলে মনে হচ্ছে।

৮. যথা সম্ভব এমন ব্যক্তিদের চাঁদাই প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক বরকতময় হবে বলে মনে হচ্ছে; যাদের চাঁদাদানের মাধ্যমে সুখ্যাতি লাভের প্রত্যাশা থাকবে না। বস্তুতঃ চাঁদাদাতাগণের নেক নিয়ত প্রতিষ্ঠানের জন্য অধিক স্থায়ীত্বের কারণ হবে বলে মনে হয়।

 

একটি অলৌকিক ঘটনাঃ
হযরত মাওলানা রফি উদ্দিন সাহেব রহ. ছিলেন দেওবন্দের জন্য অন্যতম একজন ত্যাগ স্বীকারকারী। তিনি একদিন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিয়ে গিয়ে বর্তমান সাত্তা মসজিদের পাশে একটি স্থানে দাগ টেনে দিলেন এবং সেখানেই মাদরাসার ফাউন্ডেশন দিতে বলেন। তিনি যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন, সত্যিই তিনি রাসুলের দেখিয়ে দেয়া স্থানে টেনে যাওয়া দাগ দেখতে পেলেন। অবশেষে সেখানেই বিখ্যাত ইলমি প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষাভবন নির্মাণ হলো। (সূত্র: তারিখে দারুল উলুম দেওবন্দ, ভূমিকা; মাকতাবায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ; ইখলাস কা তাজমহল)

দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে একবার শাহ রফি উদ্দিন রহ. স্বপ্নে দেখলেন যে দারুল উলুম দেওবন্দে এহাতায়ে মুলসরি নিকটবর্তী কূপ দুধে ভর্তি হয়ে গেছে এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেয়ালা দিয়ে উক্ত দুধ বন্টন করছেন। কেহ বড় পাত্র দিয়ে দুধ নিচ্ছে। আবার কেহ কেহ ছোট ছোট পাত্র দিয়ে দুধ নিচ্ছে। ঘুম থেকে জাগার পর হজরত এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলেন এভাবে যে, এখানে দুধ ধারা উদ্দেশ্য  হলো, ইলম। সুতরাং যারা যারা সেদিন রাসূলের হাতে দুধ পান করেছিলো তারাই কেবল এখানে ভর্তি হতে পারবে এবং কেয়ামত অবধি যারাই এখানে পড়তে আসবে প্রত্যেকে-ই নিজ নিজ মেহনতের উপর ইলম লাভে ধন্য হবে এই পাত্রের মতো কেউ কম, কেউ বেশী।

 

একটি বিস্ময়কর ঘটনাঃ
হজরত মাওলানা রফি উদ্দিন রাহ. মুহতামিম থাকাবস্থায় একবার  দেওবন্দে একটা বিষ্ময়কর ঘটনা ঘটে। এক ছাত্র মাদরাসার বোর্ডিং থেকে খাবার উঠিয়ে খানার পাত্রটি নিয়ে সোজা চলে আসলো মাওলানা রফি উদ্দিন সাহেব রহ. -এর কাছে। এসে বলতে শুরু করলো- এই শুরবা কি খাওয়ার জন্য বানানো হয়েছে? নাকি ওজু করার জন্য। এটা তো একদম খাবারের উপযোগী-ই না। এগুলো কোনো শুরবা হলো! শুধুই তো টাটকা পানি দেখা যাচ্ছে। এগুলো কিভাবে খাবো? এর দ্বারা তো ওজু করা যাবে!

তার এ অভিযোগ শুনার পর মাওলানা রফি উদ্দিন সাহেব রহ. খুব দূরদৃষ্টি দিয়ে তার চেহারার দিকে অপলক নেত্রে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন- এই ছেলেটা সত্যিকারার্থে দারুল উলুম দেওবন্দের রেজিস্টারভুক্ত কোনো ছাত্র না। তার এ কথা শুনে উপস্থিত ছাত্র উস্তায সবাই অবাক হয়ে গেলো। আসলে বিষয়টা কী! তিনি কিভাবে একটা ছেলেকে বিশ্বাসের সাথে মাদরাসার ছাত্র না বলে অস্বীকার করছেন! কারণ কী?

সবাই কিছুটা উদ্যত হয়ে মাদরাসার রেজিস্টারবুকে ওর নাম খোঁজাখুঁজি শুরু করলো। সত্যিই দেখা গেলো বাস্তবে সে দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্র না। ধোঁকাবাজি করে বোর্ডিং লিস্টে নিজের নাম লিখিয়ে খাবার খাচ্ছে। এবার সকল ছাত্র উস্তাদ গিয়ে মাওলানা রফিউদ্দীন রহ.-এর কাছে এর রহস্য জানতে চাইলেন যে, কিভাবে আপনি একদম বিশ্বাসের সাথে বললেন সে দারুল উলুমের ছাত্র-ই না। তখন রফি উদ্দিন সাহেব বললেন, আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম হুজুর সা. নিজ হাতে দুধ বিতরণ করছেন আর ছাত্ররা নিজ নিজ পাত্র দিয়ে দুধ সংগ্রহ করছে।

আলহামদুলিল্লাহ্! সেদিন  যারাই দুধ সংগ্রহ করেছে সবার চেহারাই আমার কাছে পরিচিত। এমনকি যারাই দারুল উলুমে ভর্তি হয় সঙ্গে সঙ্গেই আমি তাদের চেহারাগুলো চিনে ফেলি। এজন্য খানা সম্পর্কে তার অভিযোগ করার পর আমি যখন গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম, মনে হলো, তাকে তো সেদিন আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত থেকে দুধ সংগ্রহ করতে দেখি নি। সুতরাং সে দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্র হতে পারে না। তা ছাড়া দেওবন্দের প্রকৃত কোনো ছাত্র কখনোই খানার ব্যাপারে অভিযোগ করবে না৷ এজন্যই  আমি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথেই বলেছিলাম সে প্রকৃতপক্ষে দারুল উলুম দেওবন্দের রেজিস্টারভুক্ত ছাত্র না।

 

প্রথম ছাত্র ও প্রথম উস্তাদ
দারুল উলুম দেওবন্দের গর্বিত প্রথম উস্তাদ ছিলেন হজরত মাওলানা মোল্লা মাহমুদ রহ. আর প্রথম ছাত্র ছিলেন, মৌলভি মাহমুদ রহ.। যিনি পরবর্তীতে শায়খুল হিন্দ নামে পুরো বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন। মোল্লা মাহমুদ সর্বপ্রথম ছবক দান করেন সর্বপ্রথম ছাত্র মৌলভী মাহমুদকে। কী চমৎকার কাকতালীয় ব্যাপার! ছাত্রও মাহমুদ, উস্তাদও মাহমুদ। আরবী মাহমুদ শব্দের অর্থ প্রশংসিত। আল্লাহপাক মানুষের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা বদ্ধমূল করে দিয়েছেন।

 

দারুল উলুম দেওবন্দের নাম করণঃ
প্রতিষ্ঠাকালীন মাদরাসার বিশেষ কোনো নাম নির্ধারণ করা হয়নি দারুল উলুম দেওবন্দের৷ লোকমূখে তখন মাদরাসাটি দেওবন্দ আরবী মাদরাসা নামে পরিচিত হয়ে এটিই মাদরাসার নাম হয়ে যায়। ১২৯৬ হিজরিতে তৎকালীন সদরুল মুদাররিসীন হযরত মাওলানা ইয়াকুব নানুতুবী রহ.-এর প্রস্তাবে মাদরাসার নামকরণ করা হয় “দারুল উলুম দেওবন্দ”।

 

দরসে নেজামীঃ
দারুল উলুম দেওবন্দে পঠিত সিলেবাস বিশ্ব জুড়ে দরসে নেজামী নামেই প্রসিদ্ধ৷ দরসে নেজামীর প্রতিষ্ঠা হয় ১১০০ শতাব্দীর পরে৷ ১১০০ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকহারে থাকলেও তা কোনো সিলেবাসভিত্তিক বা কারিকুলামের আলোকে ছিল না। ১১০৫ হিজরিতে মোল্লা নিজামুদ্দীন সাহলাভী ইসলামী শিক্ষাকে কিছুটা ঢেলে সাজান। তিনিই দরসে নেজামী আকারে মাদরাসা শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেন। তিনি ছিলেন একাধারে দ্বীনের সুদক্ষ আলিম, ফিকাহ শাস্ত্রবিদ, দার্শনিক, ভাষ্যকার এবং একজন শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তর ভারতের সাহালী শহরে ১০৮৮/৮৯ মোতাবেক ১৬৭৭-৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

হিরাতের প্রসিদ্ধ শিক্ষাবিদ শায়খ আব্দুল্লাহ আনসারী ছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষ। শায়খ নিজামুদ্দীন সাহালীতে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের সূচনা করেন। তারই প্রপৌত্র শায়খ হাফিজের জ্ঞানসাধনায় মুগ্ধ হয়ে সম্রাট আকবর তাকে ঐ এলাকায় ভালো একটি জায়গীর প্রদানের নির্দেশ দেন। ফলে শায়খ ও তাঁর পুত্রগণ নিশ্চিন্তে তালীমের কাজে মগ্ন থাকেন। ছাত্রদের খাদ্য ও বাসস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাও করেন। ইসলামের শত্রুরা ১১০৩ হিজরি মোতাবেক ১৬৯১ সালে মোল্লা নিজামুদ্দীনের পিতা মোল্লা কুতুবুদ্দীনকে শহীদ করে তার শিক্ষা উপকরণসমূহ জ্বালিয়ে দেন। ফলে মোল্লা নিজামুদ্দীন তার চার ভাইসহ ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লাখনৌ চলে যান।

সম্রাট আওরঙ্গজেব এই পরিবারের শিক্ষার অবদানের কথা বিবেচনা করে লাখনৌর প্রসিদ্ধ মহল্লা ফিরিঙ্গী মহলে একস্থানে সরকারি আদেশবলে জায়গীর দান করেন। মোল্লা নিজামুদ্দীন এখানে দ্বীনি শিক্ষার কাজ চালিয়ে যান, এমন সময় এটাই মাদরাসায়ে নিজামিয়া নামে সুপরিচিতি লাভ করে। এই ফিরিঙ্গী মহলে এসেই তিনি ১১০৫ হিজরি সনে দরসে নেজমী প্রণয়ন করেন৷ তিনি গঠনমূলকভাবে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে প্রায় ১১টি বিষয়ের সমন্বিত সিলেবাসটি প্রণয়ন করেন। ইতিহাসে এটাই দরসে নেজামী নামে পরিচিত। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পরে উক্ত দরসে নেজামীই মাদরাসার নেসাবভুক্ত করা হয়৷ আজ অবধি এই দরসে নেজামীই বিদ্যামান রয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দের নেসাবে৷

 

শিক্ষা কারিকুলামঃ
দারুল উলুম দেওবন্দে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যন্ত চালু আছে দরসে নেজমীর আদলেই৷ দীনিয়াত বিভাগ নামে শুরু হয় প্রাইমারী শিক্ষা ব্যবস্থা৷ যেখানে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদেরকে উর্দু হিন্দী ইংরেজীর প্রথমিক শিক্ষার সাথে সাথে গনিত ও সামাজিক বিষয়ে এবং বিজ্ঞানের বুনিয়াদী বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়৷ এই দীনিয়াত বিভাগ মোট পাঁচ বছরের কোর্স৷ পঞ্চম বছর ফারসি ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়৷ যেহেতু উর্দু ভাষার পান্ডিত্য ও দক্ষতা অর্জনের জন্য ফারসি ভাষা জানা জরুরী৷

তবে দারুল উলুম দেওবন্দের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোর্স হলো ফাযেল কোর্স৷ যা আট বছরের সমাপনী কোর্স৷ এই কোর্স সমাপ্তকারীদের আলেম বলা হয়৷

এ ফাযেল কোর্সের প্রথম চার বছরকে ছানুভী তথা মাধ্যামিক বিভাগ বলা হয়৷ যেখানে আরবী নাহু ছরফ, আরবী ইনশা, মান্তেক তথা তর্কশাস্ত্র, কোরআন তরজমা এবং ইসলামী ইতিহাস সহ দীনের মৌলিক বিষয়ে তা’লীম দেয়া হয়৷

আর শেষ চার বছরে তাফসীর, উসূলে তাফসীর, ফিকাহ, উসূলে ফিকাহ, এবং হাদীস ও উসূলে হাদীসের পাঠ দান করা হয়৷ এবং ইলুমল বালাগাত ও ফাসাহাতের তালীমও দেয়া হয়৷ শেষ বছর তথা দাওরার বছর সিহাহ সিত্তাহ সহ মোয়াত্তাইন ও তহাবী এবং শামায়েলে তিরমিজীকে রেওয়াতান ও দেরায়াতান পাঠদান করা হয়৷

 

দারুল উলুম দেওবন্দের সনদের মানঃ
দারুল উলুম দেওবন্দের এই ফাযেল কোর্সকে বর্তমান সময়ের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, হায়দারাবাদ, মাওলানা আযাদ ন্যাশনাল উর্দু ইউনিভার্সিটি, হামদর্দ ইউনিভার্সিটি নিউ দিল্লী এবং লৌখনো ইউনিভার্সিটিসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বি-এ (Bachelor Of Arts) এর সমমানে মূল্যায়ণ করে থাকে৷ কেননা দারুল উলুম দেওবন্দে কোনো সরকারী স্বীকৃতি নেই৷ তাই উক্ত ভার্সিটিগুলো দারুল উলুম দেওবন্দকে বিশ্বের ইলমী মারকাজ হওয়ার সুবাধে ব্যাক্তিগতভাবে বিএ-এর মানে মূল্যায়ণ করে৷

এই ফাযেল কোর্সের পরে তাকমীলাত নামে বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক ডিগ্রী অর্জনের জন্য উচ্চতর গবেষনা কেন্দ্র হিসাবে বহু বিভাগ রয়েছে৷ যেখানে তাফসীর, হাদীস, ফিকাহ এবং ইসলামী জ্ঞান ও আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং ফেরাকে বাতেলা ও বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে৷

এছাড়া, ইসলামী জ্ঞান ব্যাতিত আরো বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ব্যাবস্থা রয়েছে৷ যেমন ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা কম্পিউটার এ্যপ্লিকেশন এবং সাংবাদিকতা ইত্যাদি যেখানে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে শিক্ষার্থীরা ফায়েদা অর্জন করে থাকে৷

তাছাড়া দারুল উলুম দেওবন্দে রয়েছে তাজবীদ এবং নাজেরা ও হিফজুল কোরআন বিভাগ৷ সাথে আছে কোরআন তাজবীদ হাফস্ রেওয়াতে উর্দু ও আরবী এবং কেরাতে ছাবয়া’ ও আশারা৷

 

শিক্ষাক্রমঃ

দ্বীনিয়াত তথা উর্দু ফারসি বিভাগ৷ (প্রাইমারী বিভাগ)
নার্সারী, প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষ, চতুর্থ বর্ষ (ফারসি),  পঞ্চম বর্ষ (ফারসি)।

ফাযেল কোর্স (আট বছর ব্যাপি)
প্রথম বর্ষ
১৷ কোরআন তাজবীদ – পাঠ্যবই : উসলুত তাজবীদ, লেখক: ক্বারী জামশেদ আলী কাসেমী
২৷ সীরাত –  পাঠ্যবই : সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া, লেখক: মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.
৩৷ ছরফ – পাঠ্যবই : মিজান, লেখক মাওলানা সিরাজুদ্দীন ওসমান, মুনশাইব, লেখক: মাওলানা হামজা         বাদওয়ানী,  পাঞ্জে গাঞ্জ, লেখক: মাওলানা ছফী রওদুলী
৪৷ নাহু – পাঠ্যবই : নাহবে মীর (লেখক: মীর সায়্যিদ শরীফ জুরজানী রহ.), শরহে মিআতে আমেল, লেখক:         সায়্যিদ শরীফ জুরজানী
৫৷ আরবী অনুশীলন, আল কেরাতুল ওয়াজেহা [প্রথম খন্ড] লেখক: মাওলানা ওয়াহীদুজ্জামান কেরানবী
মিফতাহুল আরাবিয়া, লেখক: মাওলানা নুর অালম খলীল আমিনী
৬৷ সুন্দর হস্ত লিপি,   লেখার জন্য নির্বাচিত ইবারাত

দ্বিতীয় বর্ষ:
১৷ কোরআন তাজবীদ –  পাঠ্যবই: জামালুল কোরআন (আম পারা মশকসহ) লেখক: মাওলানা আশরাফ আলী      থানবী৷
২৷ ছরফ –  পাঠ্যবই : ইলমুছ ছিগাহ, লেখক: মুফতী এনায়েত আলী ও ফুসুলে আকবরী, লেখক : ক্বাজী আকবর   আলী ইলাহবাদী৷
৩৷ নাহু – পাঠ্যবই : হেদায়াতুন নাহু, লেখক: সিরাজুদ্দীন ওসমান রহ.
৪৷ আরবী অনুশীল – পাঠ্যবই : আল কেরাতুল ওয়াজিহা [২য় খন্ড] লেখক: অহিদুজ্জামান কেরানবী
নাফহাতুল আদব, লেখক: অহিদুজ্জামান কেরানবী রহ.
৫৷ ফিকাহ শাস্ত্র, পাঠ্য বই:  নূরুল ঈযাহ, লেখক: শায়খ হাসান ইবনে আলী শরম্বুলালী রহ.
মুখতাছারুল কুদুরী [ কিতাবুল হজ্জ পর্যন্ত], লেখক: শায়খ আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল কুদুরী রহ.
৬৷ মান্তেক (তর্ক বিদ্যা) পাঠ্য বই : আসান মান্তেক, লেখক: মাওলানা আব্দুল্লাহ গংগুহী রহ.
মেরকাত , লেখক: আল্লামা ফজলে ইমাম খায়রাবাদী রহ.৷

তৃতীয় বর্ষ:
১৷ কোরআন তরজুমা, কোরআন অনুবাদ [সূরায়ে ক্বাফ থেকে শেষ পর্যন্ত]
২৷ আরবী সাহিত্য ও হাদিস পাঠ্য বই: নাফহাতুল আরব[نبذة من ذكاوة العرب থেকে শেষ পর্যন্ত] লেখক: মাওলানা   এযায আলী আমরুহী রহঃ
* মেশকাতুল আছার [পূর্ণ] লেখক: মাওলানা মোহাম্মদ মিয়াঁ রহ.
৩৷ ফিকাহ শাস্ত্র পাঠ্যবই: মুখতাছারুল কুদুরী [ কিতাবুল বুয়ু’ থেকে শেষ পর্যন্ত] লেখক: শায়খ আবুল হাসান     মুহাম্মাদ  জাফর কুদুরী রহ.
৪৷ নাহু শাস্ত্র , পাঠ্যবই: কাফিয়া লেখক: ইবনে হাজিব রহ.
৫৷ আরবী অনুশীলন, পাঠ্যবই: আল কেরাতুল ওয়াজিহা [ তৃতীয় খন্ড] লেখক মাওলানা অহিদুজ্জামান         কেরানবী  রহ. ও তালীমুল মুতায়াল্লীম
৬৷ মান্তেক, পাঠ্যবই: শরহে তাহযীব, লেখক: আব্দুল্লাহ আল ইয়াযদী
৭৷ ইতিহাস, পাঠ্যবই: তারিখে মিল্লাত, খেলাফতে রাশেদা,লেখক: কাজী যাইনুল আবেদীন মিরাঠী ও মুফতী এন্তেযামুল্লাহ শিহাবী আকবর আবাদী৷

চতুর্থ বর্ষ:
১৷ কোরআন তরজুমা পাঠ্যসূচী: সূরায় ইউসুফ থেকে সূরায়ে ক্বাহাফ পর্যন্ত৷
২৷ হাদিস, পাঠ্যবই: আলফিয়্যাতুল হাদিস লেখক: মাওলানা মুহাম্মদ মঞ্জুর নোমানী রহ.
৩৷ ফিকাহ, পাঠ্যবই: শরহে বেকায়া [১ম ও ২য় খন্ড কিতাবুল ইতাক পর্যন্ত ] লেখক: উবাইদুল্লাহ ইবনে মাসউদ
৪৷ উসুলে ফিকাহ,পাঠ্যবই: তাসহীলুল উসূল, লেখক: মাওলানা রিয়াসাত আলী বিজনুরী ও মাওলানা          নেয়ামতুল্লাহ আ’যমী রহ.
* উসূলুশ শাশী, লেখক: মাওলনা নেজামুদ্দীন আবু আলী আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আশশাশী
৫৷ বালাগাত, পাঠ্যবই: দূরুসুল বালাগাত, লেখক: হাফনী নাশিফ
৬৷ মান্তেক, পাঠ্যবই: কুতবী, লেখক: কুতুব্বুদ্দীন রাজী রহ.
৭৷ ইসলামী ইতিহাস, পাঠ্যবই: তারিখে মিল্লাত: খেলাফতে বনী উমাইয়া আব্বাসিয়া ও উসমানীয়া, লেখক: কাজী যাইনুল আবেদীন মিরাঠী, মুফতী এন্তেযামুল্লাহ শিহাবী আকবর আবাদী
৮৷ জাগতিক শিক্ষা, তারিখে জুগরাফিয়া ও ইলমে মুদনিয়্যত [ভুগলিক ইতিহাস ও শহরীয় জ্ঞান]

পঞ্চম বর্ষ:
১৷ কোরআন তরজুমা, পাঠ্যসূচী: সূরায়ে ফাতেহা থেকে সূরায় হুদ এর শেষ পর্যন্ত৷
২৷ আক্বায়েদ, পাঠ্যবই: আকিদাতুত তহাবী[সুল্লামু উলুমের পরে], লেখক: ইমাম তহাবী রহ.
৩৷ ফিকাহ, পাঠ্যবই: হেদায় [১ম খন্ড] লেখক: শায়খ আবুল হাসান মুরগিনানী
৪৷ উসূলে ফিকাহ, পাঠ্যবই: নূরুল আনওয়ার, লেখক: আল্লামা মোল্লা জিয়ুন রহঃ
৫৷ আরবী সাহিত্য, পাঠ্যবই: মাকামাতে হারিরী, লেখক: আল্লামা হারিরী রহ.
৫৷ বালাগাত, পাঠ্যবই: মুখতাছারুল মায়া’নী, লেখক: শায়খ সা’দুদ্দান তাফতাযানী রহ.
৬৷ মান্তেক, পাঠ্যবই: সুল্লামুল উলুম, লেখক: মোল্লা মুহিব্বুল্লাহ বিহারী রহ.
৭৷ তারীখে ইসলাম, পাঠ্যবই: ছালাতীনে হিন্দ লেখক: ক্বাজী যাইনুল আবেদীন মিরাঠী, মুফতী এন্তেযামুল্লাহ শিহাবী রহ.

ছষ্ঠ বর্ষ
১৷ তাফসীর ,পাঠ্যবই: তাফসীরে জালালাইন, লেখক: শায়খ জালালুদ্দীন মহল্লী ও সুয়ুতী রহ.
২৷ উসূলে তাফসীর, পাঠ্যবই: আল ফাউযুল কাবীর, লেখক: শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ.
৩৷ ফিকাহ , পাঠ্যবই: হিদায়া [২য় খন্ড], লেখক: শায়খ আবুল হাসান মুগিনানী রহ.
৪৷ উসূলে ফিকাহ, পাঠ্যবই: হুসামী [ আল ফাউযুল কাবীর এর পরে], লেখক: শায়খ হুসামুদ্দীন আখছিকাছি রহ.
৫৷ আরবী সহিত্য, পাঠ্যবই: দেওয়ানে মুতানাব্বী [নির্বাচিত কাছীদা গুচ্ছ] দেওয়ানে হামাছা [বাবুল আদব] লেখক: আবু তামাম
৬৷ ফালসাফা (দর্ষন শাস্ত্র), পাঠ্যবই:  মাবাদিয়ুল ফালসাফাহ, লেখক: মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী
মাইবুযী, লেখক: ক্বাজী ইমাম হোসাইন মাইবুযী রহ.
৮৷ সীরাত, পাঠ্যবই: আছাহহুস সিয়ার লেখক: মাওলানা আব্দুর রওফ দানাপূরী

সপ্তম বর্ষ
১৷ হাদিস, পাঠ্যবই: মেশকাত শরীফ, লেখক: শায়খ মুহাঃ ইবনে আব্দুল্লাহ খতিব তিবরিযী রহঃ
২৷ উসূলে হাদীস, পাঠ্যবই:  শরহে নুখবাতুল ফিকর, লেখক: আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ.
মুকাদ্দিমায়ে শায়খ আঃ হক মুহাদ্দিসে দেহলোবী রহ.
৩৷ আকায়েদ পাঠ্যবই: শরহে আকাইদে নাসাফী, লেখক: আল্লামা সা’দুদ্দীন তাফতাযানী রহ.
৪৷ ফিকাহ, পাঠ্যবই: হিদায়া [৩য় ও ৪র্থ খন্ড]লেখক: আল্লামা আবুল হাসান মুরগিনানী রহ.
৫৷ ইলমুল ফারায়েয, পাঠ্যবই: সিরাজী , লেখক: আল্লামা সাজাওয়ান্দী রহ,

অষ্টম বর্ষ
১৷ হাদীস শাস্ত্র : সহিহুল বুখারী , সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরিমজি, সুনানে নাসায়ী , সুনানে ইবনে মাজা, শামায়েলে
তিরমিজি, শরহে মায়ানিল আছার,  মোয়াত্তা ইমাম মালেক, মোয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ
২৷ তাজবীদ ও তিলাওয়াতের মশক

শিক্ষা বিষয়ক অন্যান্য বিভাগ সমূহ :
তাখাছ্ছুছাত
১৷ মুয়াল্লিম প্রশিক্ষন ( দুই বছর)
২৷ তাকমিলে তাফসীর ( এক বছর )
৩৷ তাখাছ্ছুছ ফিল হাদীস (দুই বছর )
৪৷ তাকমিলে ইফতা  (এক বছর )
৫৷ তাদরীব আলাল ইফতা (দুই বছর )
৬৷ তাকমীলে উলূম ( এক বছর )
৭৷ তাকমীলে আদব আরবী  (এক বছর)
৮৷ তাখাছ্ছুছ ফিল আদাবিল আরবী (দুই বছর)
৯৷ ডিপ্লোমা ইন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ এ্যান্ড লেটারিচার ( দুই বছর )
১০৷ ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার এ্যাপ্লিকেশন (এক বছর )
১১৷ ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম ( সাংবাদিকতা) এক বছর
১২৷ তাহাফ্ফুযে খতমে নবুওয়াত (এক বছর)
১৩৷ খ্রিষ্ট ধর্ম গবেষনা বিভাগ (এক বছর )
১৪৷ তাহাফ্ফুযে সুন্নাহ বিভাগ (এক বছর )
১৫৷ মোহাযারাতে ইলমিয়া (বিভিন্ন ধর্মীয় গবেষনা, ও ফেরাকে বাতিলা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন) মেয়াদকাল: এক বছর ৷
১৬৷ সুন্দর হস্ত লিপি (এক বছর)
১৭৷ টেক্সটাইল বিভাগ( এক বছর )

তাজবীদ ও হিফজুল কোরআন বিভাগ
১৷ নাজেরা বিভাগ
২৷ হিফজুল কোরআন বিভাগ  ( দুই থেকে পাঁচ বছর)
৩৷ রেওয়াতে হাফছ্ উর্দু (দুই বছর )
৪৷ রেওয়াতে হাফছ্ আরবী  (এক বছর )
৫৷ কেরাতে সাব’য়া (এক বছর )
৬৷ কেরাতে আশারা (এক বছর )

তথ্যসূত্র: মুখতাসার তারীখে দারুল উলুম দেওবন্দ

তাওহীদ আদনান
ইন্ডিয়া থেকে

মন্তব্য করুন