নারী নেতৃত্ব নিয়ে আমাদের কিছু ভুল বুঝাবুঝি

প্রকাশিত: ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৮
নারী নেতৃত্ব, পাকলিক ভয়েস

(এক)

নারী নেতৃত্ব হারাম, তাহলে নারী সরকারের অধীনে দেশে থাকো কেন ? এই প্রশ্নটা অনেক তরুণ আলেমকেও করতে দেখা যায়।  অনেক নেতাও এই প্রশ্ন করে থাকেন।  অথচ বাস্তবতা হলো নারী নেতৃত্ব মানা আর নারী ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশে থাকা দু-টো কখনই এক নয়।

দেশে থাকার ব্যাপারে হুকুম হলো, দেশের সরকার যদি কাফের, নাস্তিক, বেদ্বীনও হয় তবুও দেশে থাকা জায়েজ।  কারণ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। বর্তমানে প্রায় অসাধ্য। আর ইসলাম সাধ্যের বাহিরে নির্দেশ দেয় না।  হ্যাঁ, যদি দেশে থেকে ব্যক্তিগত ইবাদাত করতে নিষেধাজ্ঞা থাকে তবে এই অঞ্চল ত্যাগ করে হিজরত করা জরুরী হবে যদি অন্যত্র যাবার জায়গা থাকে।

তাই যারা নারী নেতৃত্বাধীন জোটের অধীনে যাওয়াকে দেশে অবস্থানের সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন তারা জেনে বা না জেনে ভুল করছেন।  স্পষ্ট ও মারাত্মক ভুল। নারী নেতৃত্বের অধীনে যাওয়া জায়েজ নয় তা সকলেই মানেন।  কারণ কোরআনে এ ব্যাপারে স্পষ্ট উল্যেখ আছে।

নারী জোটে কেন গেলো? এই প্রশ্নের উত্তরে ইদানীং একটি নেতিবাচক জবাব দেন অনেকে। তারা বলেন নারী নেতৃত্বাধীন কথাটা ঠিক নয়।  জোটের সব দলই আলাদা আলাদা আমীরের অধীন। তাই সবাই নারী নেতৃত্বাধীন কথাটা ঠিক নয়।  আমার খুব ইচ্ছে নেই এসব নিয়ে বিতর্ক করার। আমি ২০০১ সালে হওয়া জোটের বিপক্ষে নই। আমাদের জানা মতে জোটটি নারী নেতৃত্বাধীনই হয়েছে।  তবে তা ছিল দেশ ও ধর্ম রক্ষার স্বার্থে নিরুপায় হয়ে। তাও শর্ত সাপেক্ষে। তাই জায়েজ ছিল। যদিও বর্তমানে ফায়দা নেই। নিষ্ফল। যারা বলেন জোটে গিয়েও নারী নেতৃত্বাধীন হয় নি তাদের কথা ঠিক নয়।  কারণ জোটের একজন নেতা অবশ্যই আছেন। বিশ দলের নেতৃত্ব অবশ্যই বিএনপির হতে। পত্রিকা স্পষ্টই লিখে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

কই? তখন তো প্রতিবাদ করে বলা হয় না, আমরা বিএনপির নেতৃত্বাধীন নই!

তাছাড়া জোটের যখন মিটিং হয় তখন বেগম জিয়াই সভাপতি থাকেন। অতএব বাস্তবতা অস্বীকার করে উত্তর দেওয়া যায় না।

তবে যারা নিজেদের কাজকর্ম রেখে কথায় কথায় নারী নেতৃত্ব বলে আঘাত করেন তাদের উপর রাগ হয়।  আঘাত না করে নিজেদের কাজেই মনযোগী হওয়া চাই।  কারণ মানুষকে আঘাত করে বুঝানো অসম্ভব।  নিজেদের কাজ করুন। সময়ই মূল্যায়ন করবে। আঘাত করলে প্রতিবন্ধকতা বাড়বেই। বাড়ছেই।  এখনো আন্তরিক হই।  এর বিকল্প নেই।

 

(দুই)

‘নারী নেতৃত্ব হারাম, গণতন্ত্র আরাম’! তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে এই কথাটাও অনেকে বলে থাকেন।

কিন্তু এটাও একটা ভুল ধারণা।

কারণ গণতন্ত্র স্পষ্ট হারাম। আমি প্রায় সকল ইসলামী দলের গঠনতন্ত্র, সংবিধান পড়েছি। কোনো দলই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে নি। সবার লক্ষ্যই ইসলামী শাসনতন্ত্র, ইসলামী খেলাফত বা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা কেউ বলে না। কোনো ইসলামী দল যদি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় তবে সেটা ইসলামী দল নয়। অবশ্যই ইসলামী দল হতে পারবে না। কিছু হাস্যকর অজ্ঞতা হলো, ইসলামী দলের অনেক নেতাকর্মীই জানেন না তাদের গঠনতন্ত্র। তারা জানেন না তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাই কেউ যখন তাদেরকে গণতান্ত্রিক বলে আঘাত করে তখন তারা ভ্যাবাচ্যাকা হয়ে নিরব হয়ে যান। অথচ স্পষ্ট কথা হলো হকপন্থী কোনো দলই গণতন্ত্রকামী নয়।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন করা ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া, ভোট প্রদান করা এসবের হুকুম ভিন্ন।

ভোট হলো নেতা নির্বাচনের মাধ্যম। এটার কিছু শরঈ নিয়মকানুন আছে। যারা ভোটের আয়োজন করে তাদের জন্যে এসব নিয়ম পালন জরুরী।  তারা যদি নিয়ম না মানে তবে আমাদের জন্যে ভোট বর্জনের কথা ছিল। কিন্তু আমরা যদি বর্জন করে বসে পড়ি তবে খুব সহজেই তারা সব দখল করে নেবে। এজন্যে ছাড় দেওয়া যায় না। তাই বেশ কিছু ত্রুটি থাকা সত্বেও নির্বাচনে ইসলামী দলের অংশগ্রহণকে বৈধ  মনে করেন মুফতিগণ। আর ভোট দেওয়াকে ওয়াজিব বলে রায় দিয়ে থাকেন। (বিস্তারিত জানতে মুফতিদের জিজ্ঞেস করা যায়) তাই না বুঝে হকপন্থী কোন ইসলামী দলকে গণতান্ত্রিক বলে আঘাত করা অজ্ঞতা বা হিংসার আলামত।

– যুবায়ের বিন আরমান।

তরুণ আলেম, ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট

 

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মতামত ফেসবুক, ব্লগ থেকে লেখকের অনুমতিক্রমে সংগ্রহিত এবং তা একান্তই লেখকের মতামত। নিউজ পোর্টাল এই লেখার কোন অসঙ্গতির দায়ভার নেয় না)

মন্তব্য করুন